গাজায় উদ্বাস্তু সংকটের একমাত্র সমাধান স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র: মিশরের প্রেসিডেন্ট

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এবং গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে আলোচনা করতে কায়রোতে ‘সামিট ফর পিচ’ নামে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Oct 2023, 06:44 AM
Updated : 22 Oct 2023, 06:44 AM

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের তীব্র বিমান হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে গাজা। প্রাণ বাঁচাতে সেখানকার সাধারণ ফিলিস্তিনিরা ছুটছেন মিশর সীমান্তের দিকে। লক্ষ্য রাফাহ ক্রসিং পেরিয়ে মিশরে প্রবেশ করা।

কিন্তু ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য রাফাহ ক্রসিং খুলতে রাজি নয় মিশর। মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, তিনি জোর করে গাজার বাস্তুচ্যুতদের সিনাই উপদ্বীপে প্রবেশ করতে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন।

গত ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিতে নজিরবিহীন হামলার পর প্রতিশোধ নিতে ওই দিন থেকেই গাজার উপর তীব্র বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। সেই সঙ্গে গাজায় পানি, খাবার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সেখানকার ফিলিস্তিনিরা তীব্র মানবিক সংকটে পড়েছে।

শনিবার ফিলিস্তিনিদের জন্য খাবার, পানি ও ওষুধ নিয়ে ২০টি ট্রাক রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গাজায় প্রবেশ করেছে। যদিও জাতিসংঘ বলছে, সেখান যে পরিমাণ ত্রাণের প্রয়োজন তার তুলনায় ওই ২০ ট্রাক ত্রাণ ‘সমুদ্রে এক বিন্দু জলের সমান’।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০টি ট্রাক ত্রাণ নিয়ে গাজায় প্রবেশ করতো বলে জানায় জাতিসংঘ। গাজার প্রায় ২১ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ১২ লাখই ত্রাণের উপর নির্ভর করে জীবন নির্বাহ করে আসছিল।

যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এবং রাফাহ ক্রসিংয়ে জড়ো হওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে আলোচনা করতে কায়রোতে ‘সামিট ফর পিচ’ নামে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সম্মেলনে সিসি বলেন, তার দেশ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের রাফাহ ক্রসিং পেরিয়ে মিশরে প্রবেশের অনুমতি দেবে না।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ তার ওই বক্তব্যে সমর্থন জানান।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও এতে সায় দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়তে বাধ্য করা যাবে না।

“আমরা কখনো স্থানান্তর মেনে নেব না। যে সংকটই আসুক না কেনো আমরা আমাদের ভূমিতেই থেকে যাব।”

যৌথ কোনো বিবৃতি ছাড়াই ওই সম্মেলন শেষ হয় বলে জানায় বিবিসি। ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ কোনো কর্মকর্তা ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।

সম্মেলনে আরব এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভেদও ছিলো চরম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আরব কূটনীতিক সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপের প্রতিনিধি এ যুদ্ধের সব দায় হামাসের উপর চাপিয়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি করেছিল। আরব নেতারা ওই দাবি প্রত্যাখান করেছেন।

সম্মেলন শেষে আরব প্রতিনিধিদের অনুমোদন নিয়ে মিশর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। যেখানে ‘এ যুদ্ধ অবসানের স্থায়ী কোনো সমাধান না খুঁজে বরং কোনো মতে সংকট ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার জন্য’ বিশ্বনেতাদের সমালোচনা করা হয়।

মিশর এবং অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলি এর আগেও বলেছে, যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের তারা গ্রহণ করবে না। কারণ সেটি হবে নিজেদের ভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের সমান।

সম্মেলনে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ ‘গাজার উপর ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে বিশ্ব নেতাদের নিরবতার’ নিন্দা জানান।

সম্মেলনে উপস্থিতি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি বলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের সাথে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গাজায় বেসামরিক জীবন রক্ষায় তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে কথা বলেছেন।

গাজার বর্তমান সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ করা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “এ সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।”

সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস ‘মানবিক যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানিয়ে ‘ভয়ঙ্কর এই দুঃস্বপ্নের অবসানে বৈশ্বিক পদক্ষেপের’ দাবি জানান।

গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।