ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালে ‘কিডনি কেনাবেচার’ খবর

অভিযোগ উঠেছে, মিয়ানমারের দরিদ্র তরুণদের প্রলুব্ধ করে তাদের কিডনি কিনে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Dec 2023, 11:01 AM
Updated : 6 Dec 2023, 11:01 AM

বিশ্বের অন্যতম বড় বেসরকারি হাসপাতালের গ্রুপ অ্যাপোলো হাসপাতালের বিরুদ্ধে কিডনি ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলেছে, বিপুল অর্থের বিনিময়ে দরিদ্রদের প্রলুব্ধ করে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ। 

ভারতসহ বেশিরভাগ দেশেই অর্থের বিনিময়ে কিডনি প্রতিস্থাপনা বা কিডনি কেনাবেচা অবৈধ। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন বলছে, এমন ব্যক্তিদের কিডনি কিনে অ্যাপোলো হাসপাতালে বিত্তশালী রোগীদের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, যাদের সেই রোগীরা চেনেও না।

ভারতের ইন্দ্রপ্রস্থ মেডিকেল করপোরেশন রাজধানী দিল্লিতে দুটি অ্যাপোলো হাসপাতাল পরিচালনা করে। নয়ডাতেও তাদের হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশেও তাদের হাসাপাতাল রয়েছে।

ভারতের সবথেকে বড় এই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মিয়ানমারের দরিদ্র তরুণদের প্রলুব্ধ করে তাদের কিডনি কিনে প্রতিস্থাপন করছে দিল্লির হাসপাতালে। আর এ কাজে সহযোগিতা করছে মিয়ানমারের অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাপোলো হাসাপতাল গ্রুপ বলছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ইন্দ্রপ্রস্থ মেডিকেল করপোরেশনের বিরুদ্ধে যে খবর এসেছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়া এবং বিভ্রান্তিকর’।

বিষয়টি নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নে অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইন্দ্রপ্রস্থ মেডিকেল করপোরেশন যে বিবৃতি দিয়েছে, তার সঙ্গে তারা একমত। এ ঘটনায় দিল্লি সরকার একটি অনুসন্ধান চালাবে বলে সিএনবিসি-টিভি জানিয়েছে।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাপোলো হাসপাতালে কিডনি কেনাবেচার খবর তারা পেয়েছিল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় ৫৮ বছর বয়সী দা সো সো নতুন কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য মিয়ানমারের মুদ্রায় ৮০ লাখ কিয়াট দিয়েছিলেন। তার অস্ত্রোপচার হয়েছিল দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে।

এই নারী জানান, যে ব্যক্তি কিডনি দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অপরিচিত।

“আমি জানি ভারত ও মিয়ানমার কেউই অপরিচিত ব্যক্তিদের অঙ্গদানের অনুমতি দেয় না। কিন্তু মিয়ানমারে এজেন্ট আমাদের বলেছিল, হাসপাতালে যেন বলি, আমরা পরস্পরের আত্মীয়।”

পরে টেলিগ্রাফের একজন রিপোর্টার এক অসুস্থ নারীর আত্মীয় সেজে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য যোগাযোগ শুরু করে। মিয়ানমারে অ্যাপোলো হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তখন জানায়, অপরিচিত এক ব্যক্তিকে কিডনি দেওয়ার জন্য পাঠানো হবে।

মিয়ানমারের অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক থেট থেট মেইন্ট ওয়েই বলেন, “আত্মীয় পাওয়া সম্ভব না হলে আমাদের একজন দাতা খুঁজতে হবে। সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ।”

কিডনি প্রতিস্থাপনের আরও বেশ কয়েকটি ঘটনা অনুসন্ধান করেছে টেলিগ্রাফ।