Published : 06 Sep 2025, 02:17 PM
মার্কিন নৌবাহিনীর অভিজাত সিল দলের সদস্যরা ২০১৯ সালে কিম জং উনের ওপর নজরদারি করতে উত্তর কোরিয়ায় একটি শ্রবণ যন্ত্র পাতার দুঃসাহসিক অভিযান শুরু করলেও কমিউনিস্ট দেশটিতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যায়।
মিশন সফল তো তারা করতেই পারেনি, উল্টো নিজেদের বাঁচাতে তারা উত্তর কোরিয়ার একাধিক বেসামরিককে হত্যাও করে, শুক্রবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার সংবেদনশীল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আলোচনা চলাকালে নেভি সিল এই অভিযান চালায়। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প তিনবার কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
অভিযানটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সাধারণত এ ধরনের অভিযানে সরাসরি প্রেসিডেন্টের অনুমোদন লাগে, বলেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
তবে শুক্রবারই ট্রাম্প বলেছেন, ওই অভিযান বিষয়ে তিনি মোটেও অবগত ছিলেন না।
“আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি প্রথমবার এটা শুনছি,” সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, উত্তর কোরিয়ায় অভিযানের আগে সদস্যরা কয়েক মাস প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ‘মারাত্মকভাবে ব্যর্থ’ হয়।
মার্কিন এই নেভি সিলই ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছিল।
অভিজাত এই ইউনিটের সদস্যরা ২০১৯ সালের অভিযানে ছোট আকারের সাবমেরিনে করে উত্তর কোরিয়ার কাছাকাছি যান; এরপর কয়েকঘণ্টা ঠাণ্ডা পানিতেই কাটাতে হয় তাদের। পরে তারা সাঁতরে তীরে ওঠেন, বলছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ সংবাদমাধ্যম। পুরো ঘটনা বের করতে দুই ডজন মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
প্রতিবেদনে তারা লিখেছে, তীরে ওঠার পর অভিযানে যাওয়া ওই বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ভেবেছিলেন তাদেরকে কেউ দেখতে পায়নি। অথচ ওই এলাকায় থাকা একটি ছোট নৌকা তাদের চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল।
ওই নৌকা পরে ছোট সাবমেরিনগুলোর দিকে এগিয়ে যায়, নৌকাটির এক ক্রুর হাতে ফ্ল্যাশলাইটও ছিল। নৌকা থেকে একজন পানিতে লাফিয়েও পড়েন।
ধরা পড়ে যাচ্ছেন ভেবে তীরে থাকা সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নৌকাটি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু করেন, পরে অন্যরাও তার সঙ্গে যোগ দেন।
নৌকার কাছে পৌঁছার পর তারা সেখানে দুই-তিনটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তবে নৌযানটিতে কোনো বন্দুক বা ইউনিফর্ম পাওয়া যায়নি।
নিহতরা বেসামরিক নাগরিক ছিলেন বলে বুঝতে পারেন তারা। এ বেসামরিকরা সামুদ্রিক ঝিনুক ধরতে নৌকা নিয়ে বের হয়েছিলেন বলে অনুমান করেন তারা।
সিল সদস্যরা পরে মৃতদের ফুসফুস ফুটো করে দেন, যেন সেগুলো পানিতে ডুবে যায়। এরপর তারা সেখান থেকে পালান এবং অক্ষত অবস্থায় ঘাঁটিতে ফেরেন।
ওই অভিযান নিয়ে পরে একাধিক সামরিক পর্যালোচনায় পরিস্থিতি অনুযায়ী গুলি চালানো এবং তাতে বেসামরিক নিহতের ঘটনাটি ন্যায্য বলে বিবেচিত হয়েছে, জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
তবে সেসব পর্যালোচনার ফল গোপন রাখা হয়, এমনকী কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও এ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।