Published : 19 Apr 2026, 03:20 PM
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফ বলেছেন, তেহরান কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামরিক সংঘাতের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।
ইরান যে তার শত্রুদের মোটেও বিশ্বাস করে না এবং যে কোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তার এ কথাতেই বোঝা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম।
শনিবার রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে কলিবফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ছলনায় আলোচনার মাঝেই ‘ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া তৃতীয় যুদ্ধ’ শুরু হয়েছিল।
আগের সংঘাতগুলোও ইরানি সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়েই তেহরান সাম্প্রতিক এ যুদ্ধে প্রবেশ করে।
কলিবফ আরও বলেন, পরিকল্পনা, গুণগত মান ও বাস্তবায়নে ‘শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে ইরান’। শত্রুরা যদি এটা মেনে নাও নেয়, যুদ্ধক্ষেত্রে তারা তা প্রত্যক্ষ করেছে।
ব্যাপক জনসমর্থন ও সাম্প্রতিক সামরিক অর্জনের কথা উল্লেখ করে ইরানি এ রাজনীতিক বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন যুদ্ধে’ ইরানের সেনারা ১৭০ থেকে ১৮০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
কয়েক মাসের বিস্তৃত ছক ও কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে পারার কথাও জানান তিনি।
সামগ্রিক সমরশক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে এগিয়ে—এমনটা স্বীকার করে নিয়েই দক্ষতা ও ফলাফল বিবেচনায় সর্বশেষ সংঘাতে ইরান-ই জয়ী হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামরিক উপকরণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলোই সবসময় ফল ঠিক করে দেয় না উল্লেখ করে কলিবফ ইরানের সাফল্যের পেছনে পরিকল্পনা ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।
শত্রুরা ইরানের জনগণ ও দেশটির সামরিক কৌশলকে অবজ্ঞা করেছিল বলেও মত তার।
ইরানের ‘শক্তির কূটনীতি’ দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ইঙ্গিত করে কলিবফ বলেন, তেহরান রণাঙ্গন ও কূটনীতি উভয় ক্ষেত্রেই বিজয় অর্জন করেছে।
শত্রুদের ইরান বিশ্বাস করে না এবং সংঘাত যে কোনো সময় ফের বাধতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, যে কোনো পরিস্থিতির জন্য পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাকিস্তানসহ একাধিক দেশের মাধ্যমে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এসেছিল এবং যুদ্ধের ৩৬তম দিনে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ তা পূর্ণাঙ্গভাবে খতিয়ে দেখেছিল বলেও জানান তিনি।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া এ স্পিকার বলেন, ইরান দৃঢ়তার সঙ্গে সব ধরনের চাপ মোকাবেলা করেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামসহ সব ধরনের হুমকির যথাযথ জবাবও দিয়েছে।
নতুন যে কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যদেরও ভুগতে হবে বলে কলিবফ হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
হুমকি বা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দাবি চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়া ‘আগ্রাসনকারীরা’ ঘুরিয়ে বার্তা পাঠানোর আশ্রয় নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইরান এখন যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থার চেয়েও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
কলিবফ বলেন, যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ইরানের অন্যতম শর্ত ছিল, এতে অবশ্যই হিজবুল্লাহকে রাখতে হবে।
প্রতিরোধকারী এ গোষ্ঠীটি ইরানের পক্ষে লড়েছে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো চুক্তি হলে তাতে অবশ্যই হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধের সমালোচনা করে এ রাজনীতিক যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘ভ্রান্ত’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং কেউই ইরানের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ পার হতে পারবে না।
তেহরান ওয়াশিংটনকে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে হস্তক্ষেপ বা এর পরিচালনায় কোনো ভূমিকায় থাকতে দেবে না, টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে তাকে এমনটাই বলতে শোনা যায়।
ইরান দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘একদমই বিশ্বাস করে না’ জানিয়ে কলিবফ যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি, নতুন সংঘাত এই চক্রের পুনরাবৃত্তি এড়াতে স্থায়ী ও সবাই মেনে চলবে এমন চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদও ব্যক্ত করেন।