Published : 09 Dec 2025, 04:22 PM
কৃষিজাত পণ্য বিশেষ করে ভারত থেকে চাল আর কানাডা থেকে সার আমদানিতে নতুন শুল্ক আরোপ করে বসতে পারেন বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এই দুটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনায় এখনও বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সোমবার মার্কিন কৃষকদের জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের একটি সহায়তা প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়ার সময় হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এ হুমকি দেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
রিপাবলিকান এ নেতা বলেন, আমদানি দেশীয় উৎপাদকদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। আমেরিকান উৎপাদকদের রক্ষায় আগ্রাসী শুল্ক নীতিকে কাজে লাগানোর ইচ্ছার কথাও জোরের সঙ্গে বলেন তিনি।
ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছ থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা অর্থ থেকে তার প্রশাসন ‘মার্কিন কৃষকদের এক হাজার ২০০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেবে’, বলেন ট্রাম্প।
“আপনারা যদি ভেবে দেখেন, আমরা সত্যি সত্যিই লাখ লাখ কোটি ডলার নিচ্ছি,” বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘এমন সুবিধা নিয়েছে যা আগে কখনো কেউ দেখেনি’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পূর্বসূরীর কাছ থেকে পাওয়া মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের দাম কমে যাওয়া পরিস্থিতির বদল ঘটিয়ে কৃষি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে কৃষকদের নতুন এ সহায়তা দরকার, বলেছেন ট্রাম্প।
“কৃষকরা অপরিহার্য জাতীয় সম্পদ, মার্কিন মেরুদণ্ডের অংশ,” বলেছেন তিনি।
ভারতের প্রসঙ্গ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে চাল আমদানি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায়। লুইজিয়ানার এক উৎপাদক ভারত থেকে চাল আমদানি দক্ষিণের কৃষকদের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের চালের খুচরা বাজারে দুটি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের মালিক ভারতীয় কোম্পানিগুলো, এমনটা জানানোর পর ট্রাম্প বলেন, “ঠিক আছে, এটা আমরা দেখছি। এটা ভালো, সহজও, শুল্ক, আবার, দুই মিনিটে সমাধান হয়ে যাবে।
“তাদের ডাম্পিং (কম দামে বিক্রি) করা উচিত হচ্ছে না। মানে, আমি শুনেছি, অন্যদের কাছ থেকে শুনেছি। আপনি এটা করতে পারেন না,” বলেছেন তিনি।
মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কানাডা থেকে সার আমদানিতে শুল্ক বসানোর সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।
“অনেকখানি কানাডা থেকেই আসে, তাহলে আমরা বড় ধরনের শুল্ক বসিয়ে এর ইতি টানতে পারি। এভাবেই এখানে (উৎপাদন) বাড়াতে পারবেন। আমরা সেটা করতে পারি, এখানেই সেটা (সার) বানাতে পারি,” বলেন তিনি।
ভারতীয় পণ্য আমদানিতে এপ্রিলে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। নয়া দিল্লি মস্কো থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় শাস্তিস্বরূপ এই শুল্ক দ্বিগুণ করে করা হয় ৫০ শতাংশ। তার মধ্যে ট্রাম্প এবার চাল আমদানিতেও শুল্ক দেওয়ার হুমকি দিলেন।
এর মধ্যে ওয়াশিংটন ও নয়া দিল্লি বেশ কয়েকবার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বসলেও সফল হতে পারেনি। তবে শাস্তিমূলক শুল্ক এড়াতে ভারতের অনেক কোম্পানি গত ২-১ মাসে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাচ্ছে বলে অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম খবর দিয়েছে।