Published : 02 May 2026, 11:50 PM
পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলার মুখে ইসরায়েল কেবল যে তাদের বিখ্যাত 'আয়রন ডোম' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই পাঠিয়েছিল তা নয়, দেশটিকে আরও উন্নত প্রযুক্তিও দিয়েছিল তারা।
'ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস'-এর প্রতিবেদন বলছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবেলায় আমিরাতকে একটি অত্যাধুনিক লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও দিয়েছে তেল আবিব।
অত্যাধুনিক এই লেজার ব্যবস্থার মোতায়েন ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের মধ্যে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রথম উদাহরণগুলোর একটি। অথচ ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আগে এই দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কই ছিল না।
আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা ‘আয়রন বিম’ দেওয়াকে ‘ইসরায়েলের বন্ধু হওয়ার মূল্য’ অভিহিত করেছেন।
আবু ধাবিতে এই লেজার ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘স্পেকট্রো’ নামক একটি উন্নত নজরদারি ব্যবস্থাও পাঠানো হয়। এটি ২০ কিলোমিটার দূর থেকেই ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন শনাক্ত করতে সক্ষম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েল তাদের এমন সব সমরাস্ত্র আমিরাতকে দিয়েছে যেগুলো এখনো চূড়ান্ত সংস্করণ তৈরি হয়নি এবং ইসরায়েলি রাডার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্তও নেই।
ইসরায়েল তাদের ‘আয়রন বিম’ লেজার সিস্টেমের যে সংস্করণ পাঠিয়েছিল, তা স্বল্পপাল্লার রকেট ও ড্রোনকে আকাশেই ভস্মীভূত বা ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, ইসরায়েল এর আগে লেবানন থেকে আসা হিজবুল্লাহর আক্রমণ মোকাবেলায় এই ‘আয়রন বিম’ ব্যবহার করেছিল।
‘আয়রন ডোমের’ পাশাপাশি সেসময় ইসরায়েল তার ‘কয়েক ডজন’ সেনাও আমিরাতে পাঠিয়েছিল।
“সেটা অল্প সংখ্যক সেনা ছিল না,” ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে এমনটাই বলেছে ওই সূত্র।
বিরতির আগে ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ইরান থেকে আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,০০০-এর বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল।
ইসরায়েলের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্য এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে এর বেশিরভাগই মাঝ আকাশে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি একাধিক সূত্রের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপনের পর দেশ দুটি নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইসরায়েল আরব দেশটিতে তাদের বারাক ও স্পাইডার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা সরবরাহ করেছিল। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধই দুই দেশের অংশীদারিত্বের প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে ‘সানন্দে’ গ্রহণ করায় যুদ্ধের শুরু থেকেই আরব আমিরাত ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল, বলেছেন পশ্চিমা এক কর্মকর্তা।