১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনপন্থি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করল তাইওয়ান

প্রভাবশালী  এই ইনফ্লুয়েন্সার তাইওয়ানকে বলপ্রয়োগ করে চীনের দখল করে নেওয়ার ধারণার সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করার পর দ্বীপদেশটি এ পদক্ষেপ নিল।

চীনপন্থি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করল তাইওয়ান
ভাঙা কাঁচের ভেতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে চীন ও তাইওয়ানের পতাকা। ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Mar 2025, 07:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:02 PM

তাইওয়ানে বাস করা এক চীনা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তাকে কয়েকদিনের মধ্যে তাইওয়ান ছাড়তে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাকে বিতাড়িত করা হবে।  

প্রভাবশালী ওই ইনফ্লুয়েন্সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত চীনপন্থি মন্তব্য পোস্ট করে আসছেন। তাইওয়ানকে বলপ্রয়োগ করে চীনের দখল করে নেওয়ার ধারণার সমর্থনে তিনি ভিডিও পোস্ট করার পর তাইওয়ান তাকে চলে যাওযার এই নির্দেশ দিল।

সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা এবং দেশটির প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নিল তাইওয়ান।   স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই ইনফ্লুয়েন্সারের নাম লিউ। তিনি এক তাইওয়ানিকে বিয়ে করে ডিপেন্ডেন্ট ভিসায় দেশটিতে বসবাস করছেন।  

তাইওয়ানের ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন এজেন্সি (এনআইএ) বলেছে, “তার কর্মকাণ্ড তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এবং তা তাইওয়ানের সমাজ মেনে নেবে না।”

বিবিসি লিখেছে, লিউকে ২৪ মার্চের মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে, নাহলে তাকে বের করে দেওয়া হবে। তাইওয়ানের অভিবাসন সংস্থা (এনআইএ) শনিবার জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি নতুন ডিপেনডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

তাইওয়ানে চীনা দম্পতিদের মধ্যে এমন ভিসা বাতিলের ঘটনা বিরল।  লিউ সোশ্যাল মিডিয়ায় 'ইয়াইয়া' নামে পরিচিত। নিয়মিত তিনি তার ভিডিওতে চীনের পক্ষে বক্তব্য দেন। এসব ভিডিওতে তিনি তাইওয়ানকে ‘তাইওয়ান প্রদেশ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বেইজিংয়ের অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, “তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

 চীন স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখতে চায়।  

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে, যেখানে লিউয়ের ৪৮০,০০০ অনুসারী রয়েছে, তিনি বলেন, “মাতৃভূমির সম্পূর্ণ একত্রীকরণ জরুরি, তাইওয়ানের জনগণ যা-ই ভাবুক না কেন।”  

তার এসব মন্তব্যের কারণে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে, লিউ বলেন, “আমি দুই পক্ষের ভালো দিকগুলো তুলে ধরতে চেয়েছি, বিভেদ দূর করতে চেয়েছি।”  

তবে তাইওয়ানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিউ শিহ-ফাং বলছেন, “তাইওয়ানে আগ্রাসনের ডাক দেওয়ার ক্ষেত্রে বাক স্বাধীনতা কোনও অজুহাত হতে পারে না।”  

তাইওয়ানে বর্তমানে তিন লাখ ৬০ হাজারের বেশি চীনা নাগরিক তাদের জীবনসঙ্গীর সূত্র ধরে বাস করছেন। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তাদের কার্যক্রম এখন বেশি নজরদারির মধ্যে রয়েছে।  

সম্প্রতি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই ছিং-তে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বেইজিং তাইওয়ানের ভেতরে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাই সীমান্ত পারাপার ও যোগাযোগ আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”