১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে ‘হান্টাভাইরাস ছড়িয়েছে’ বলে সন্দেহ, ৩ মৃত্যু

নিহত তিনজনই ডাচ। তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে এমভি হন্দিয়াস পরিচালনাকারী ট্যুর কোম্পানি ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস।

আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে ‘হান্টাভাইরাস ছড়িয়েছে’ বলে সন্দেহ, ৩ মৃত্যু
প্রমোদতরী এমভি হন্দিয়াস। ফাইল ছবি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 May 2026, 05:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

আটলান্টিক মহাসাগরে এক প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে সন্দেহ হওয়ার পর ওই নৌযানের ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এমভি হন্দিয়াস নামের ওই জাহাজে এক জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। আরও ৫ জনের দেহেও এ ভাইরাসটি আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। 

যুক্তরাজ্যের ৬৯ বছর বয়সী এক নাগরিক এখন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন; তার শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতির বিষয়টি স্থানীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন।  

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মল, লালা বা প্রস্রাবের মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। এটি শ্বাসকষ্টজনিত মারাত্মক অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়।

এমভি হন্দিয়াস পরিচালনাকারী ট্যুর কোম্পানি ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা একটি ‘গুরুতর মেডিকেল পরিস্থিতি’ মোকাবেলা করছে। 

তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রমোদতরীটি গত ২০ মার্চ দক্ষিণ আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে রওনা হয়ে সোমবার কেপ ভার্দেতে পৌঁছায়। নৌযানটি এখন কেপ ভার্দের রাজধানী প্রায়ার বাইরে নোঙর করা অবস্থায় আছে।  

নৌযানটিতে দেড়শর মতো ভ্রমণকারী রয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফস্টার মোহালে।

মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে এক ডাচ যুগলও ছিলেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে ৭০ বছর বয়সী পুরুষ যাত্রীটি হুট করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার জ্বর, মাথাব্যাথা, পেটব্যাথা ও ডায়রিয়া দেখা দেয়। 

আটলান্টিকের দক্ষিণে অবস্থিত ব্রিটিশ ভূখণ্ড সেইন্ট হেলেনা দ্বীপে পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তি মারা যান। 

তার সঙ্গী ৬৯ বছর বয়সী নারীও নৌযানে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাকে পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত জোহানেসবার্গের এক হাসপাতালে তিনি মারা যান। 

তৃতীয় যে ব্যকিত মারা গেছেন তিনিও ডাচ। এ তিনজনের মৃতদেহই দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস। 

দুই ক্রু সদস্যের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দরকার বলেও জানিয়েছে তারা, কিন্তু কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে জাহাজ থেকে নামাতে ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। 

হান্টাভাইরাসে আক্রান্তদের দেহে উপসর্গের দেখা মিলতে এক থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন অনুজীববিদ্যা বিশেষজ্ঞ সিউজি ওয়াইলস।

গত বছরের মার্চে অস্কারজয়ী অভিনেতা জিন হ্যাকম্যানের স্ত্রী হান্টাভাইরাস সংশ্লিষ্ট শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় মারা যাওয়ার পর এ ভাইরাসটি গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিল।