Published : 15 Dec 2025, 07:06 PM
কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত তীব্রতর হওয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, লাওসের সঙ্গে সীমান্তের একটি চেকপয়েন্টের মধ্য দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ তারা বন্ধ করেছে।
কারণ, তাদের আশঙ্কা, এই রুটে সরবরাহ হওয়া জ্বালনি কম্বোডিয়ার কাছে চলে যাচ্ছে, যে জ্বালানি দিয়ে কম্বোডিয়া সীমান্তে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া দুই পক্ষই জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী ৮১৭ কিলোমিটার স্থলসীমান্তের একাধিক স্থানে সংঘর্ষে জড়িত। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক চেষ্টা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পরও কোনও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বিশেষ বৈঠক, যেখানে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা মিলিত হবার কথা ছিল, মঙ্গলবার বৈঠক নির্ধারিত ছিল। তবে থাইল্যান্ডের অনুরোধে এই বৈঠক ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে,বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের বিরোধ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্রতা এবং মাত্রা লাওস সীমান্ত সংলগ্ন বনাঞ্চল থেকে উপকূলীয় প্রদেশগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত। এ অঞ্চলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন সংঘাত নজিরবিহীন।
থাই জাতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত আট দিনে উভয় পক্ষে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছে এবং ৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী লাওসের চং মেক সীমান্ত পয়েন্টে সব জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করেছে। এসব জ্বালানি কম্বোডিয়ার সেনাদের কাছে যাচ্ছে এমন গোয়েন্দা খবর পেয়ে এই জ্বালানি রুট বন্ধ করে থাই সেনাবাহিনী।
থাই প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি একথা জানিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য লাওসের জনগণ বা সরকারের ওপর প্রভাব ফেলা নয়।”
ওদিকে, লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। থাই সামরিক বাহিনী কম্বোডিয়ার “উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়” তাদের নৌযান সীমিত করার কথাও ভাবছে, যেখানে তাদের উপর হামলার আশঙ্কা আছে।
থাই নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, এ পদক্ষেপ অন্যান্য দেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলবে না।
বিভিন্ন বাণিজ্য সূত্রে জানা গেছে, কম্বোডিয়ার পরিশোধিত জ্বালানির বড় অংশ, যেমন গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েল, সামুদ্রিক পথে আসে।
তবে বাজারের সুনির্দিষ্ট অংশ শতাংশ নিশ্চিত করা যায়নি। কপলার শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কম্বোডিয়ায় এই জ্বালানির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ সিঙ্গাপুর।
এ বছর এ পর্যন্ত প্রায় ৯১ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি কম্বোডিয়ায় সরবরাহ হয়েছে। অন্যদিকে, থাইল্যান্ড থেকে সরবরাহ এ বছর কমে প্রায় ৩০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে, যা গতবছরের ১ লাখ ৮০ হাজার টন থেকে অনেক কম।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, থাইল্যান্ডের জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, জুলাইয়ের পর কম্বোডিয়ায় আর কোনও তেল রপ্তানি হয়নি।