০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের ট্রাম্পের দাবি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের জন্য আরও একটি পরাজয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের ট্রাম্পের দাবি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে গত মাসে আয়োজিত ‘নো কিংস: ভোট আর্লি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় একজন বাসিন্দা তার ভোট প্রদান করছেন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 11:33 AM

Updated : 03 Nov 2026, 11:33 AM

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেরদিন সোমবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ২০ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত ভোটারের ব্যালট গণনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার একটি আবেদন দ্রুত খারিজ করে দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকযোগে পাঠানো এসব ব্যালটের ভোটারদের মার্কিন নাগরিক না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদালত বরাবর করা আবেদনে জানিয়েছিল, যেন ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তারা ডাকযোগে আসা ২০ হাজার ব্যালট পৃথক করে রাখেন, কারণ এসব আগাম ভোট অবৈধভাবে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা ট্রাম্প প্রশাসনের।

কিন্তু বিচারপতিরা বিচার বিভাগের এই জরুরি আবেদনটি জমা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা নাকচ করে দেন, জানিয়েছে রয়টার্স।

এর ফলে মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে বিতর্কিত ব্যালট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তোলা দাবিগুলো খারিজ হয়ে গেল। এসব ব্যালট গণনার বাইরে রাখা হলে তা হাজার হাজার ভোটারের ওপর প্রভাব ফেলতে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারত।

রযটার্স লিখেছে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের জন্য আরও একটি পরাজয় হিসেবে গণ্য হল। আর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন তার বিপাবলিকান দলীয় সঙ্গীরা মার্কিন কংগ্রেসের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার লড়াইয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ও এটি ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি। এই অঙ্গরাজ্যে প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ক্যালিফোর্নিয়ার ৫২টি আসন আছে, যা অন্য যে কোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি।

ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, ভোটার জালিয়াতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে আর ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসীদের অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে নির্বাচন চুরি করছে। এর জন্য তিনি অনেকাংশে ডাকযোগে ভোটদান পদ্ধতিকে দায়ী করেন, যা অনেক ডেমোক্র্যাটিক অঙ্গরাজ্যে অনুমোদিত। ট্রাম্প প্রশাসন অনাগরিকদের কথিত ভোট দেওয়ার বিষয়ের ওপর নজরদারিও জোরদার করেছে।

কিন্তু একাধিক গবেষণা ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, অনাগরিকসহ নিবন্ধিত ভোটার নন, এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ওপর সন্দেহ সৃষ্টি করতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি নিম্ন আদালত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের এ অবস্থানের পক্ষে রায় দিয়েছে।

পুরনো খবর:

কংগ্রেস ও ক্ষমতার সমীকরণ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সহজপাঠ