Published : 14 Apr 2026, 03:10 PM
উত্তর কোরিয়া নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিয়ন’-এর কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে যুদ্ধজাহাজটি থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ।
মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রোববার উত্তর কোরিয়ার পশ্চিম উপকূলে পরীক্ষাটি চালানো হয়। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন উপস্থিত থেকে এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও নৌ-কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।
কেসিএনএ জানায়, যুদ্ধজাহাজটির সমন্বিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে দুটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পদ্ধতি এবং এর উন্নত নেভিগেশন সিস্টেমের নির্ভুলতা ও জ্যামিং প্রতিরোধী ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৩৩ মিনিট ধরে পশ্চিম উপকূলের আকাশে ওড়ার পর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কিম নির্মাণাধীন আরও দুটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজের অস্ত্র ব্যবস্থা পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন। এর মাধ্যমে ‘চোয়ে হিয়ন’ শ্রেণির তৃতীয় ও চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ তৈরির প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
এ সময় কিম জানান, উত্তর কোরিয়ার ‘পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ শক্তিশালী করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বহাল রয়েছে। তিনি কৌশলগত ও ট্যাকটিক্যাল আক্রমণ ক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানান।
এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ৫ হাজার টন ওজনের চোয়ে হিয়ন-ক্লাস যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রথম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল পিয়ংইয়ং। একই বছরের জুনে কিম ঘোষণা করেছিলেন যে, ২০২৬ সালে আরও দুটি ডেস্ট্রয়ার তৈরি করা হবে এবং প্রতি বছর দুটি করে এই ক্লাসের বা এর চেয়েও উন্নত যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল রয়টার্সকে বলেন, চতুর্থ ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের বিষয়টি এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল উত্তর কোরিয়া। তিনি মনে করেন, উত্তর কোরিয়া একক কোনো প্ল্যাটফর্মের বদলে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ডেস্ট্রয়ার ফ্লোটিলা’ বা রণতরীবহর তৈরির কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।
অধ্যাপক লিম আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে এক অপরিবর্তনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।