Published : 16 Jul 2026, 07:31 PM
ইউক্রেইনের জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী কিইভসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।
বিবিসি জানায়, কিইভের রাস্তায় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই তরুণ। তারা ‘ফেদোরভের ওপর থেকে হাত সরাও’ , ‘বিজয়কে নস্যাৎ করা বন্ধ কর’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে এবং ‘লজ্জা! লজ্জা!!’ বলে স্লোগান দেয়।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভকে বরখাস্ত করার কারণ জানাননি। তার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সামরিক মহল এবং সুশীল সমাজের একটি অংশে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ গত জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি সঞ্চার করাসহ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কার্যকারিতা বিশ্লেষণ ও উন্নত করতে তথ্যনির্ভর পদ্ধতি চালু করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেইনের পার্লামেন্টে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লিমেঙ্কোকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
ফেদোরভের অপসারণের কারণ নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, তার সঙ্গে ইউক্রেইনের কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেকজান্দর সিরস্কির মতপার্থক্য জেলেনস্কির এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
তবে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফেদোরভ ইঙ্গিত দেন যে, তিনি চিফ অব জেনারেল স্টাফ আন্দ্রি হোনাতভ এবং কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেকজান্দর সিরস্কিকে পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়ার পর থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।
ফেদোরভ বলেন, জেনারেল সিরস্কি লড়াইয়ে রাশিয়াকে ধারাবাহিকভাবে পরাজিত করার চেয়ে বরং দেশকে বিভক্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন। আমাদের সব প্রস্তাব ব্লক করে দেওয়া হচ্ছিল।
ফেদোরভ এও জানান যে, জেলেনস্কি তাকে উপদেষ্টা হিসেবে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জেলেনস্কি জনগণের ভাষা বুঝবেন এবং পরিস্থিতির শতভাগ সমাধান করবেন।
ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউক্রেইনীয় সেনাসদস্য ওলেক্সান্দর। বিবিসি-কে তিনি বলেন, “জেলেনস্কি তার গোটা প্রেসিডেন্সির সময়ে এটিই সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন।”
ওলেক্সান্দর জানান, চলতি বছরের শুরুতে তিনি ফেদোরভের দল ও তাদের পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তাকে বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন, এমন কাউকে তিনি চেনেন না, সেটি না সেনাবাহিনীতে, না সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভের কেন্দ্রস্থল ইভান ফ্রাঙ্কো স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩১ বছর বয়সী মারিয়া লাভরিনেতস বিবিসি-কে বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে আমার অনেক বন্ধু রয়েছে। তাদের অনেকেই মারা গেছেন। আমি চাই না এই পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকুক।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ফেদোরভের কাজের ফল দেখছি। আমরা সেনাদের অনুপ্রেরণা দেখছি। আমাদের তাদের পক্ষেই দাঁড়ানো উচিত।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ফেদোরভ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ইউক্রেইনের অনেকের মতে, মন্ত্রণালয়টি দীর্ঘদিন অতিরিক্ত আমলাতন্ত্র এবং সোভিয়েত আমলের পুরোনো মানসিকতার মধ্যে আটকে ছিল।
ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়ক সাবেক এই মন্ত্রী ২০২২ সালে রাশিয়ার অভিযানের শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবী ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেইন’ গঠন করেন। এই বাহিনী রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা পরিচালনা করত।
পরে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ নামের একটি সফল তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধে ‘গেমিফিকেশন’ পদ্ধতিও চালু করেন, যার মাধ্যমে রুশ সামরিক সম্পদ ধ্বংসের ভিত্তিতে ইউক্রেইনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে ক্রেডিট বা পয়েন্ট দেওয়া হয়।