১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মিয়ানমারে ভূমিকম্প: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আরও ধ্বংসস্তূপ

মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ বলেছেন, হাজার হাজার মানুষের জরুরি আশ্রয়, খাবার এবং চিকিৎসা সহায়তা দরকার।

মিয়ানমারে ভূমিকম্প: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আরও ধ্বংসস্তূপ
মিয়ানমারে শুক্রবারের ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Mar 2025, 01:52 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:37 PM

চার বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ, তীব্র খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক অবনতির মধ্যে মিয়ানমারে নতুন বিপর্যয় ডেকে এনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। 

শুক্রবার মধ্য মিয়ানমারের সাগাইং শহরে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প। এরপর আরো চারটি পরাঘাত আঘাত হেনেছে, যার একটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৮।

ভূমিকম্পের পর থেকে ধ্বংসযজ্ঞের খবর আসতে থাকে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় ও রাজধানী নেপিদো থেকেও। সাগাইং থেকে নেপিদোর দূরত্ব প্রায় ২৪১ কিলোমিটার।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারে তথ্য পাওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। আক্রান্ত এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও ইন্টারনেট সেবার বাইরে চলে গেছেন লাখ লাখ মানুষ।   

ভেঙে পড়েছে বহু এলাকার বাড়িঘর, মসজিদ, উপড়ে গেছে গাছ। ফাটল ধরেছে রাস্তায়, ভেঙে গেছে সেতু, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। 

তবে মিয়ানমারে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ বলেছেন, হাজার হাজার মানুষের জরুরি আশ্রয়, খাবার এবং চিকিৎসা সহায়তা দরকার।

বহু এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব কতটা পড়েছে তা জানতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে বলেও তার ধারণা। 

রেড ক্রসের আশঙ্কা, মিয়ানমারের বড় বড় বাঁধগুলোতে কম্পনের কারণে ফাটল ধরে থাকতে পারে। ফলে বন্যাও দেখা দিতে পারে। এতে বিপর্যয় আরও বাড়বে।

হতাহত বাড়ছেই 

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের হিসাবে, রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের ১৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে, মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে।

দক্ষিণ-পশ্চিম চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশেও সেই কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পে মিয়ানমারে ১৪৪ জন নিহত ও ৭৩২ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা।

দেশটির সামরিক জান্তা নেতা মিন অং হ্লায়িং রাজধানী নেপিদোয় ৯৬ জন, সাগাইংয়ে ১৮ জন এবং মান্দালয়ে ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছেন। 

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। আহত যারা হয়েছেন তাদের ১৩২ জনই নেপিদোর এবং ৩০০ জন সাগাইংয়ের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন তিনি। 

ভূমিকম্প-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারে গত ২০ বছরের মধ্যে এত তীব্র ভূমিকম্প আর দেখা যায়নি। 

ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পাশের দেশ থাইল্যান্ডও। দেশটির রাজধানী ব্যাংককে নির্মাণাধীন ৩০ তলা ভবন ধসে পড়ে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। অন্তত ৮১ জন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ার তথ্য দিয়েছেন থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তারা প্রায় সবাই নির্মাণ শ্রমিক। 

রয়টার্স জানায়, ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চলছে। নিখোঁজদের হন্যে হয়ে খোঁজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ভূমিকম্প মিয়ানমারে নতুন নয়। ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে দেশটিতে শক্তিশালী ছয়টি ভূমিকম্প হওয়ার ইতিহাস আছে। মিয়ানমারের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত সাগাইং চ্যুতিরেখা। সেকারণে প্রায়ই ভূমিকম্প হয় মিয়ানমারে।

ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

সন্তানদের নিয়ে নিজের নেপিদোর অ্যাপার্টমেন্টেই ছিলেন সিরিনিয়া নাকুতা, হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হলে বেশ কিছু সময়েও তা না থামায় ছেলেমেয়েদের নিয়ে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন তিনি।

রয়টার্সকে নাকুতা বলেন, “কম্পন থামছিল না। উপরের তোলা থেকে পাথরের মত জিনিস খসে পড়ার শব্দ শুনতে পাই। তখন বাচ্চাদের বলি, আমাদের এখানে থাকা ঠিক হবে না, বাইরে চলে যাওয়া উচিত।”

মিয়ানমারের সবথেকে বড় শহর ইয়াঙ্গনের এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, কম্পন ছিল বেশ তীব্র। প্রায় চার মিনিট ধরে ঝাঁকুনি চলে।

আরেক ব্যক্তি ঘটনার বর্ণনায় বলেন, “ঘুম থেকে জেগে দেখি ভবন মারাত্মকভাবে দুলছে। কাঁপাকাঁপি প্রায় তিন থেকে চার মিনিট চলে। বন্ধুদের কাছ থেকে মেসেজ পাচ্ছিলাম। দেখলাম কম্পন শুধু ইয়াঙ্গুন নয়, দেশের অনেক এলাকাতেই হয়েছে।”

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বড় শহর মান্দালয়ে ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। রয়্যাল প্যালেস, ৯০ বছরের পুরনো ব্রিজ ধসে পড়ার পাশাপাশি আর মহাসড়কও ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ৩০ তলা যে ভবনটি ধসে পড়েছে, সেটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ভবন থেকে অনেক দূরে থেকে একজন ভিডিও করছেন। নির্মাণাধীন ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানকার শ্রমিকরা দৌড়ে সরে আসছেন। অনেক দূর থেকে ভিডিও করা ব্যক্তিও পরে দৌড়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। গোটা এলাকা ধুলোয় ঢেকে যায়। ভবনটির ধসে পড়ার ঘটনায় সেখানে ৪৩ শ্রমিক আটকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

থাইল্যান্ডের বাং সু জেলার ডেপুটি পুলিশ প্রধান ওরাপাত সুকথাই বলেন, টাওয়ারটি নিচে পড়া শ্রমিকদের চিৎকার তিনিও শুনেছেন।

“ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আমি লোকেদের সাহায্যের আর্তনাদ শুনতে পাই। তারা বলছে, সাহায্য করুন। আমাদের অনুমান শত শত মানুষ আহত হয়েছে।”

ভূমিকম্পের পর ব্যাংককে মেট্রো ও রেল সেবা স্থগিত করা হয়েছে। সুজসান্না ভারি-কোভাকস নামে একজন বলেন, “রেস্তোরাঁয় আমি বিলের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সেসময় কম্পন বুঝতে পারি। প্রথমে মনে করেছিলাম, শুধুই আমার কাছেই এমন মনে হচ্ছে। তারপর দেখি সবাই তাকিয়ে আছে। তৎক্ষণাৎ আমরা বাইরে দৌড়ে বের হয়ে যাই।”

যেভাবে ‘আজকের’ মিয়ানমার

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর মিয়ানমারের কয়েক দশক কাটে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সামরিক শাসনেই।  

২০১১ সালে দেশটি সেখান থেকে সরে আসা শুরু করে এব‌ং চার বছর পর একটি অবাধ নির্বাচন হয়, যেখানে জয়ী হন অং সান সু চি।

কিন্তু ২০২১ সালে জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের অভ্যুত্থানে সু চি ও তার সরকার উৎখাত হলে গণতন্ত্রের আশা ভেস্তে যায়। 

তিনি সু চি ও তার সহযোগীদের আটক করে একের পর এক অভিযোগ আনতে থাকেন। আটকের কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগও আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। 

ওই ভোটে অবশ্য সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল। 

সু চিকে আটকের পর ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় মিয়ানমারে; বেসামরিক সরকারের দাবিতে প্রতিদিন সড়কে নেমে আসেন লাখো মানুষ। 

ওই সময় বেসামরিক নাগরিক ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যায়। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটসহ ব্যাপক বল প্রয়োগ করে সেনাবাহিনী।

অনেক মানবাধিকার সংগঠনের বিশ্বাস, সেনাবাহিনীর ওই দমনপীড়নে কয়েকশ মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। 

দেশটিতে প্রথমে আন্দোলন শুরু হয়েছিল একটি দাবি নিয়ে। কিন্তু গণতন্ত্রপন্থী এবং জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো জড়িয়ে পড়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তা ব্যাপক বিদ্রোহে রূপ নেয়, যা শেষমেশ গিয়ে ঠেকে সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধে।

এরপর চার বছর কেটেছে, কিন্তু দেশটিতে যুদ্ধ-সংঘাত থামেনি। এরই মধ্যে সেনাবাহিনী দেশের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের প্রতি আনুগত্য কমেছে সেনাবাহিনীতে।

ভূমিকম্পে মিয়ানমারের মান্দালয় শহরের অনেক ভবনই হেলে পড়েছে। ছবি: রয়টার্স।

ভূমিকম্পে মিয়ানমারের মান্দালয় শহরের অনেক ভবনই হেলে পড়েছে

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের ৩৫ লাখের বেশি মানুষ ভিটেছাড়া হয়েছে। সহিংসতা অব্যাহত থাকলে এ সংখ্যা বাড়বে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ‘নজিরবিহীন’ পর্যায়ে চলে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকের জন্য খাদ্যসামগ্রী ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

এর মধ্যে গত সপ্তাহের শুরুতে মিয়ানমারের ১০ লাখের বেশি মানুষের খাদ্য সহায়তা কাটছাঁট করার ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ। তহবিলের সংকট দেখিয়ে এ ঘোষণা দেয় তারা।   

কয়েক মাস আগে ঘূর্ণিঝড় ইয়াগি মোকাবিলা করতে হয় দেশটিকে। 

গত সেপ্টম্বরের ওই ঝড়ে অন্তত ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নষ্ট হয় হাজার হাজার একর জমির ফসল।

এর মধ্যে শুক্রবারের ভূমিকম্প যে দেশটির পাঁচ কোটি মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।     

ভূমিকম্প আঘাত হানা সাগাইং শহরটি বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত। কয়েক মাস আগেই বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল লড়াই চলে সেখানে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি বলছে, শহরটিতে বিমান হামলাও চালায় সেনাবাহিনী। হামলা থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি ছাড়ে হাজার হাজার মানুষ। 

ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ লাখ বাসিন্দার শহর মান্দালয়ও। সেখানে স্থানীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াই চলে।  

মিয়ানমারের ইরাবতী নদীর উপরের আভা ও সাগাইং অঞ্চলের সংযোগ সেতু আভা। ছবি: এক্স

মিয়ানমারের ইরাবতী নদীর উপরের আভা ও সাগাইং অঞ্চলের সংযোগ সেতু আভা

ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে দেশটি থেকে অল্প তথ্যই আসছে জানিয়ে বিবিসি লিখেছে, রাজধানী নেপিদোর একটি হাসপাতালকে হতাহতদের রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ওই হাসপাতালের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, জরুরি সেবা দেওয়া বহু ভবনও ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে। 

মান্দালয়ে অনেকে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। উদ্ধার কাজের জন্য তাদের হাতিয়ার দরকার বলে বিবিসি সাংবাদিককে জানিয়েছেন একজন।

দেশটির সামরিক শাসক বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অনুরোধও জানিয়েছে তারা, যা খুব একটা দেখা যায় না।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পয়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রাও জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এবং বিশেষ করে রাজধানী ব্যাংকক-কে ‘বিপর্যয় এলাকা’ ঘোষণা করেছেন। শহরের রেল চলাচল শুক্রবারের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন-

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ধসে পড়ল ব্রিটিশ আমলের সেতু

ব্যাংককে ভেঙে পড়া ভবনগুলো বেশিরভাগই নির্মাণাধীন ছিল

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় মিয়ানমারের ভূমিকম্প

ভূমিকম্পে মিয়ানমারে নিহত ১৪৪, থাইল্যান্ডে ধ্বংসস্তূপে আটকা শতাধিক

মিয়ানমারে ভূমিকম্প: অনেক এলাকায় জরুরি অবস্থা, ধসে পড়েছে একাধিক ভবন