Published : 25 Nov 2025, 06:04 PM
টানা বর্ষণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক বছরের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায় এবার ত্রাণ ও মেডিকেল সামগ্রী পৌঁছে দিতে বিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছে থাইল্যান্ড।
বন্যা এরই মধ্যে ওই এলাকার ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রবল বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উদ্ধার ও নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের ৯টি প্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী মালয়েশিয়ার ৮টি অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এবারের বন্যায় ভুগছে। বন্যার পানি কোথাও কোথাও ২ মিটার উপর দিয়ে বইছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ।
থাই নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা দেশের দক্ষিণে পাঠাতে বিমানবাহী রণতরী চাকরি নারুয়েবেত ও ১৪টি নৌযানের একটি বহর প্রস্তুত করছে। এর সঙ্গে হেলিকপ্টার, চিকিৎসক, ত্রাণসামগ্রীও যাবে। একটি ফিল্ড কিচেনও থাকছে, যা দিনে তিন হাজার মিল সরবরাহ করতে পারবে।
বন্যায় থাইল্যান্ডে এর মধ্যেই প্রায় ১৯ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবারও অনেক এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে এবং হঠাৎ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ। সমুদ্রে ১০ ফুট উঁচু ঢেউয়ের দেখা মিলতে পারে জানিয়ে ছোট নৌকাকে তীরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছে তারা।
“গত তিন দিন ধরে হাজার হাজার মানুষ একের পর এক ফোন দিয়ে যাচ্ছে, অনেকে চাইছে যেন তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়, কেউ কেউ চাইছে খাবার,“ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাত ইয়াই শহরের মাচিমা উদ্ধারকেন্দ্রে কাজ করা এক স্বেচ্ছাসেবক এমনটাই বলেছেন।
এলাকাগুলোর অনেক বাসিন্দা ফেসবুকেও সাহায্যের আবেদন করছেন। একজন লিখেছেন, “আমরা পাঁচজন, সঙ্গে এক শিশু, কিন্তু ঘরে চাল বা পানি নেই। ফোনের নেটওয়ার্কও বন্ধ, পানি দ্রুত বাড়ছে।”
হাত ইয়াইতে শুক্রবার একদিনেই ৩৩৫ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মালয়েশিয়ায় ১৮ হাজার ৫০০-র বেশি মানুষকে বন্যাজনিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১২৬টি ত্রাণকেন্দ্রে সরানো হয়েছে। পারলিস অঙ্গরাজ্যে উদ্ধারকর্মীরা হাঁটুসমান উচ্চতার পানি পেরিয়ে ঘরে ঘরে প্রবেশ করছেন, উদ্ধারকাজে নিয়োজিত নৌকাগুলো বৃদ্ধদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে।