Published : 24 May 2026, 09:59 PM
২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে বড় অগ্রগতি অর্জন করতে চলেছে চীন। দেশটি তাদের মহাকাশ স্টেশনে এক বছর থাকার জন্য রোববার একজন নভোচারীকে পাঠাচ্ছে।
চীনের ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের মহাকাশ অভিযান। মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকলে মানুষের শরীরে কী পরিবর্তন ঘটে তা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করতেই এই অভিযান।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৮ মিনিটে লং মার্চ-২ এফ ওয়াই২৩ রকেটে করে শেনঝৌ-২৩ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে।
এই মহাকাশযানে তিন নভোচারী থাকবেন। তাদের একজন পে–লোড বিশেষজ্ঞ লি জিয়াইং (লাই কা-ইং নামেও পরিচিত)। তিনি আগে হংকং পুলিশের পরিদর্শক ছিলেন। হংকং থেকে চীনের মহাকাশ মিশনে অংশ নেওয়া প্রথম ব্যক্তি হলেন লি জিয়াইং।
অন্য দুই নভোচারী হলেন, কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু এবং পাইলট ঝ্যাং ইউয়ানঝি। তারা দুজনই পিপলস লিবারেশন আর্মির নভোচারী বিভাগের সদস্য। এই তিন নভোচারীর মধ্যে একজন তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে একবছর অবস্থান করবেন।
এটি হবে সবচেয়ে দীর্ঘ মহাকাশ অভিযানগুলোর একটি। তবে ১৯৯৫ সালে রাশিয়ার এক মহাকাশচারীর গড়া সাড়ে ১৪ মাসের রেকর্ডের চেয়ে এই অভিযান কম দীর্ঘ হবে।
শনিবার চীনের মহাকাশ সংস্থা জানায়, তিন নভোচারীর মধ্যে কে মহাকাশ স্টেশনে এক বছর থাকবেন সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তীতে অভিযানের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে।
চীন এর আগেও বেশ কয়েকবার তাদের মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পাঠিয়েছে। তবে এবার তারা এমন সময়ে নভোচারী পাঠাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চাঁদে পৌঁছানো নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন ভবিষ্যতে চাঁদে উপনিবেশ গড়া, চাঁদের ভূখন্ড খনন ও সম্পদ আহরণের পরিকল্পনা করছে। তবে চীন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। চীনের চেয়ে দুই বছর আগেই এ অভিযান চালাতে চায় নাসা। ভবিষ্যতে মানুষকে মঙ্গলগ্রহে পাঠানোর পথ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে দীর্ঘমেয়াদে ঘাঁটি গাড়তে চায়।
গত এপ্রিল মাসে নাসার চার নভোচারী আর্টেমিস-২ মিশনের অংশ হিসেবে চাঁদের চারপাশে ঐতিহাসিক ভ্রমণ করেছেন। অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম মনুষ্যবাহী চন্দ্রাভিযান। এই অভিযানের অংশ হিসেবে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় সবচেয়ে দূরের অংশে গিয়েছিলেন।
ওদিকে, চীন ২০২১ সাল থেকে শেনঝৌ অভিযানের অংশ হিসেবে তিনজন করে নভোচারীকে ছয়-মাসের জন্য মহাকাশ স্টেশনে পাঠাচ্ছে। চীনের মহাকাশ সংস্থা বর্তমানে দুই পাকিস্তানি নভোচারীকেও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তাদের একজন চলতি বছর কম সময়ের অভিযানে তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে যেতে পারেন।