Published : 18 Mar 2026, 03:02 PM
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক, বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক চালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড অগ্নিকাণ্ডে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের জন্য আপাতত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাদ দিয়ে গ্রিসের এক বন্দরে ফিরে যাচ্ছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড এখন লোহিত সাগরে আছে। সেখান থেকে বিমানবাহী রণতরীটিকে মেরামতের জন্য গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজটির লন্ড্রি অংশে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এতে অন্তত দুজন নাবিক আহত হয়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে লোহিত সাগরে যাওয়ার আগে গ্রিসের এই বন্দরেই যাত্রাবিরতি করেছিল ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড।
মার্কিন নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র রণতরীটির অবস্থা বা এর সঙ্গে থাকা গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোর গতিবিধি সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফোর্ডের স্ট্রাইক গ্রুপ লোহিত সাগরে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
পারমাণবিক শক্তিচালিত ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের ওজন এক লাখ টন, এর ক্রু সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। এতে এফ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানসহ ৭৫টিরও বেশি আকাশযান আছে। এর অত্যাধুনিক রেডার বিমান চলাচল ও জাহাজ চলাচলে সাহায্য করতে সক্ষম।
এই যুদ্ধজাহাজটি নয় মাস ধরে সাগরে মোতায়েন আছে। ইরান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে লোহিত সাগরে আসার আগে রণতরীটি ক্যারিবীয় সাগরে ছিল। সেখানে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে এটি অংশ নিয়েছে।
মাসের পর মাস ধরে সাগরে মোতায়েন থাকায় জাহাজটির নাবিকদের মনোবল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফের যুদ্ধের জড়ানোর জন্য রণতরীটি কতোটা প্রস্তুত, প্রশ্ন আছে তা নিয়েও।
রয়টার্স জানায়, ওই কর্মকর্তারা, যারা নাম না প্রকাশ করার শর্তে কথা বলেছেন, ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড কতোদিন ক্রিটে থাকতে পারে তা জানাননি।
তাদের মধ্যে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজের প্রধান লন্ড্রি এলাকায় লাগা আগুন স্লিপিং বার্থ এলাকায়ও ছড়িয়েছিল। এতে প্রায় ১০০টি স্লিপিং বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধোঁয়ায় শ্বাস রুদ্ধ হয়ে প্রায় ২০০ জনের মতো নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে এক সেনাকে হেলিকপ্টারে করে নিকটবর্তী একটি দেশের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম অগ্নিকাণ্ডে যুদ্ধজাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর দিয়েছিল। তখন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জানানো অনুরোধে পেন্টাগন সাড়া দেয়নি।