Published : 13 Jul 2026, 01:11 PM
দল, মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সরকার দেশ পুনর্গঠন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, আমরা এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। সকল সময় আমি একটি কথা বলি, বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। এই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ বিএনপির কাছে থাকবে, যতক্ষণ বিএনপির পাশে জনগণ থাকবে—বিএনপি কোনো বাধা মানবে না।
“বিএনপি দেশকে ইনশাল্লাহ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে জনগণকে সাথে নিয়ে। আপনাদের কাছে এবং সারা বাংলাদেশের দল, মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে, ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার—দেশকে পুনর্গঠন করার সমর্থন ব্যক্ত করে আমার বক্তব্য আমি শেষ করছি।”
সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তারেক রহমান তার সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের কাছে জানতে চান, তারা এই কার্ড পাওয়ার পর কী কী সুবিধা পাচ্ছেন।
সুবিধাভোগী পারুল আখতার মঞ্চে এসে বলেন, “আমি এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব ঘুচেছে।
“আমি আশা করি, আগামীতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য এরকম সহযোগিতা করে যাবেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে বোনদের কাছে যে কথা শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে একটু হলেও তাদের জন্য সুবিধা হয়েছে সংসারের কাজগুলো গোছানোর জন্য। আমাদের লক্ষ্য এটাই, আমাদের উদ্দেশ্যে এটাই—আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারে, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারে।”
তারেক রহমান বলেন, “আজকে আমাদেরকে যদি সামনের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, যদি দেশের প্রত্যেক মায়ের হাতে, প্রত্যেক নারীর হাতে যদি ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, তাহলে আপনাদের সাহায্য, আপনাদের সমর্থন, আপনাদের সহযোগিতা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রয়োজন।
“বিএনপি সরকারকে আপনারা দেশের নারী সমাজ, সকলে যদি বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করে, যদি বিএনপি সরকারের পাশে থাকে, ইনশাল্লাহ আমরা ফ্যামিলি কার্ড আস্তে আস্তে সারাদেশে পৌঁছে দিতে পারব।
“আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে আমরা একটি বিরাট পরিবর্তন করতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। কারণ ধীরে ধীরে শিক্ষার আলো আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সাথে অর্থনৈতিকভাবেও তারা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হবে।”

দেশের সবাইকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চান মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা একটি কথা বলি, ‘করব কাজ—গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, ‘করব কাজ—গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। সবাই যাতে এই বাংলাদেশে আমরা আগামী দিনে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে আমরা বাংলাদেশে একটু ভালো চলতে পারি; সেটি হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি, সেটি হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য।
“আমরা দেশে সকলকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। দেশে আমরা সকল ধর্মের মানুষকে একসাথে নিয়ে শান্তিতে আমরা চলতে চাই। আমরা যদি ধৈর্যশীল হই, আমরা সকলে যদি ধৈর্য সহকারে চলি, তাহলে আমরা আমাদের এই দেশটাকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।
“আমরা মুসলমান হই, আমরা হিন্দু হই, আমরা বৌদ্ধ হই, খ্রিষ্টান হই; আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে—সকল ধর্মের মানুষ এই দেশে আমরা শান্তিতে বসবাস করেছি অতীতে। কাজেই বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও আমরা চাই, সকল ধর্মের মানুষকে একসাথে নিয়ে কোনো ভেদাভেদ না। সকলকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
গৌরনদীর ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। ৩৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী শহরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি লাগোয়া সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ করবেন।