Published : 13 Jun 2024, 06:00 PM
ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় পুগলিয়ায় জি-৭ জোটের দেশগুলোর নেতাদের নিয়ে শুরু হয়েছে শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে ইউক্রেইনের জন্য তহবিল বাড়ানো ছাড়াও চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা একযোগে মোকাবেলার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) থেকে শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। সম্মেলনে জেটভুক্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও জাপান ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বাইডেনের সঙ্গে তার একটি নিরাপত্তা চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
জব্দ রুশ সম্পদ থেকে পাওয়া মুনাফাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেইনকে ৫০ বিলিয়ন বা পাঁচ হাজার কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার ঘোষণা এবারের জি-৭ সম্মেলন থেকে নেতারা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেইনে রাশিয়া আগ্রাসন শুরুর পর দেশটির সম্পদ জব্দ করেছিল পশ্চিমা দেশগুলো।

বিবিসি জানায়, ইউক্রেইনের জন্য তহবিল বাড়াতে রাশিয়ার জব্দ হওয়া সম্পদের আয় কাজে লাগানো নিয়ে জি-৭ নেতাদের আলোচনায় বেশ ‘ভাল অগ্রগতি’ হয়েছে বলে খবর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান।
সম্মেলনের আলোচনায় বসার আগেই সালিভান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এ বিষয়ে আলোচনায় তারা একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই তিনি আশা করেন। সম্মেলনে ইউক্রেইনকে রুশ সম্পদের মুনাফা থেকে বছরে ৫ হাজার কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার ওই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র উত্থাপন করছে বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনে অন্যান্য আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে থাকছে গাজা, অভিবাসন এবং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাও (এআই)।
জি-৭ নেতারা এর আগে ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পরিকল্পনা সমর্থন করেছিলেন, যাতে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি করাসহ জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া এবং ত্রাণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।

বাইডেনের ওই পরিকল্পনা মেনে নেয়ার আহ্বান থেকে শুরু করে এ অঞ্চলে শান্তির জন্য দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের গুরুত্ব নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হতে পারে। ওদিকে, অভিবাসন ইস্যুতে বিশেষত আফ্রিকা থেকে মানুষজনের ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য সহযোগিতার নানা বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে।আর এআই প্রসঙ্গে আলোচনা হতে পারে এর নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে। বিশ্বব্যাপী নিরাপদ, এবং বিশ্বাসযোগ্য এআই চালু করার প্রক্রিয়া নিয়ে হতে পারে এ আলোচনা।
জি-৭ সম্মেলন শুরুর আগেই চীনের ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ফলে সম্মেলনে তিনি চীনের বিরুদ্ধে আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে পশ্চিমা মিত্রদের তাগাদা দেবেন সেটি একরকম নিশ্চিত।
রাশিয়াকে চীনের সমর্থনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞার টার্গেট করেছে। আর ইউক্রেইনের রাশিয়ার আগ্রাসনের শাস্তি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়িয়েছে।