Published : 06 Jun 2026, 11:42 PM
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় লেবানন সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার, আরেক কর্মকর্তা ও এক সেনা নিহত হয়েছে।
শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় সামরিক বাহিনীর এক গাড়িতে হামলার ঘটনায় তারা নিহত হন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে, কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তারা তা তদন্ত করে দেখছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আইডিএফ নাবাতিয়েহ এলাকার বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য নতুন সতর্কতা জারি করেছিল আর হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর অনবরত ড্রোন ছুড়ছিল।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই গাড়িটি নাবাতিয়েহর কাফার তেবনিত ও খারদালি এলাকার মধ্যবর্তী একটি রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি হামলার শিকার হয় আর এতে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন ও একজন সেনা নিহত হয়।
এলাকাটি লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এক বিবৃতিতে লেবানের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, “লেবানন, এর জনগণ আর এর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বারবার, ইচ্ছাকৃত, অব্যাহত আগ্রাসন কেবল আমাদের বিশ্বাস, প্রত্যয় ও সংকল্পকে শক্তিশালী করবে।”
এতে আরও বলা হয়েছে, “একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার ও লেবাননের অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে একটি সমাধানে পৌঁছানোর সব ধরনের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়াই ইসরায়েলের হামলাগুলোর লক্ষ্য।”
পরে আইডিএফ এই হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে। তারা দাবি করেছে, ওই গাড়িটি একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে ‘সন্দেহজনকভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল’ যেখানে চলাচলের জন্য আগে থেকেই ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা দরকার ছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য আক্রমণের গোয়েন্দা হুঁশিয়ারি থাকায় ওই এলাকায় অভিযানরত সেনারা উচ্চ সতর্কাবস্থায় ছিল আর লেবাননি গোষ্ঠীটি আশপাশেই সক্রিয় আছে বলে তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
বিবৃতিতে আইডিএফ বলেছে, “শনাক্তকরণের পর আর সতর্কতামূলক তথ্য ও বাহিনীর জন্য বিপদ বিবেচনায় গাড়িটিতে আঘাত হানা হয়।”
গাড়িটিতে লেবানন সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা ও একজন সেনা ছিল, এটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ঘটনাটি আবার পর্যালোচনা করে দেখছে তারা।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যে লড়াই চলছে লেবানন সেনাবাহিনী মূলত তা থেকে দূরেই আছে। তারা চলমান এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে না।
লেবাননে সংঘাত থামাতে গত ১৭ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিজেদের হামলাকে ন্যায্য বলে দাবি করছে।