Published : 10 Jan 2026, 10:48 PM
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই) কর্মকর্তাদেরকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফিলাডেলফিয়ার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনার।
তিনি বলেছেন, তার শহরে কোনও আইসিই এজেন্ট অপরাধ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে, বিচার করা হবে এবং দোষী সাব্যস্ত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নামের এক নারী নিহতের ঘটনার পর ল্যারি ফিলাডেলফিয়ায় স্থানীয় আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে অভিবাসন কর্মকর্তাদেরকে সতর্ক করলেন।
মিনিয়াপোলিসে গুলির ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, রেনি নিকোল গুড আইসিই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় সেটিতে গুলি চালানো হয়।
মার্কিন ফেডারেল কর্মকর্তারা বলছেন, রেনে নিকোল গুড নামের ওই নারী তার গাড়ি অভিবাসন কর্মকর্তাদের ওপর তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আইসিই কর্মকর্তা জীবন নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন এবং ‘আত্মরক্ষামূলক গুলি’ ছোড়েন।
পরে ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পও লেখেন, আইসিই-র এক কর্মকর্তা চাপা পড়েছিলেন। তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র এসব যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওই নারীর ওপর গুলি চালানো কর্মকর্তা ‘বেপরোয়া’ আচরণ করেছেন। মিনেসোটা কত
মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে গুলির ওই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফিলাডেলফিয়ার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি।
এক সংবাদ সম্মেলনে আইসিই এজেন্টদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, “আপনাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে, বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। দোষী সাব্যস্ত করা হবে।”
ফেডারেল এজেন্টসহ যে কোনও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা- যারাই ফিলাডেলফিয়ায় অপরাধ করবে তাদের জন্যই এই সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন ল্যারি। মিনিয়াপোলিসে গুলির ফুটেজ দেখেছেন জানিয়ে ল্যারি ওই নারী হত্যাকে বেআইনি আখ্যা দিয়েছেন।
কেবল ল্যারিই নন ফিলাডেলফিয়ার শেরিফ রোচেলে বিলালও যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই এজেন্টদেরকে একহাত নিয়েছেন। তিনি এই এজেন্টদেরকে ভুয়া এবং অপেশাদার আখ্যা দেন। এই কর্মকর্তাদের কাজ বৈধ আইন এবং নৈতিক আইন-দু’য়েরই লঙ্ঘন বলে তিনি বর্ণনা করেন।
‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই) এজেন্টদের কাছ থেকে বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ফিলাডেলফিয়ার কর্মকর্তারা নতুন নীতি এবং আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টদের নারী হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন তারা।
অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে হোয়াইট হাউসের দেশব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে কয়েকশ আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার গুলির ঘটনার পর শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়। মিনিয়াপোলিসের ক্ষুব্ধ অনেক বাসিন্দাই গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইসিই-কে শহর ছাড়তে আহ্বান জানিয়েছেন।
তাছাড়া, মিনিয়াপোলিসে গুলির ঘটনা নিয়ে নিউ অরলিয়ন্স, মিয়ামি, সিয়াটল ও নিউ ইয়র্ক সিটিসহ বেশকিছু শহরে বিক্ষোভের প্রস্তুতির খবর পাওয়া যায়।