Published : 22 Jan 2026, 08:48 PM
বাসে এক পুরুষ সহযাত্রী যৌন হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ করে সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করেছিলেন এক নারী। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অপমানে আত্মহত্যা করেন অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি৷
সেই ঘটনাতেই পরে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অভিযোগকারী ৩৫ বছর বয়সি ওই নারীকে। নাম সিমঝিতা মুস্তাফা৷ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালা রাজ্যে।
সিমঝিতা মুস্তাফা নামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট বানিয়ে থাকেন। তার বিরুদ্ধে দীপক ইউ নামের ওই ব্যক্তিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে৷
ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে গত সপ্তাহে পোস্ট করেছিলেন সিমঝিতা। তাতে তিনি অভিযোগ করেন, বাসে একসঙ্গে সফরের সময় দীপক ইউ নামের ৪২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তাকে অবাঞ্ছিতভাবে স্পর্শ করেছেন। সেজন্যই তিনি মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করেন।
দীপক ইউ গত সপ্তাহে কন্নুড় জেলায় একটি বাসে চেপে কোঝিকোডে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই বাসেই তিনি ওই ঘটনা ঘটান বলে মিঝিতার অভিযোগ। তার পোস্ট করা ভিডিও দ্রুত সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়৷
২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছিল সিমঝিতার পোস্ট করা ভিডিও। এই ঘটনার দু’দিন পর কোঝিকোড়ের বাড়িতে দীপককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বাবা-মা৷ তাদের দাবি, দীপক নিরপরাধ ছিলেন এবং এই ঘটনায় প্রচণ্ড অপমানিত বোধ করতে শুরু করেছিলেন৷
দীপকের মা বলেন, “আমার ছেলে এই অপমান সহ্য করতে পারেনি৷” দীপকের বন্ধুবান্ধবরাও বিবিসি-কে বলেছেন, তিনি খুবই ভদ্র ছিলেন। তিনি কোনও নারীর সঙ্গে এমন কাজ করতে পারেন না।
১৮ জানুয়ারিতে দীপকের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে কেরালায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায়। দীপকের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এমনকী ‘মেনস রাইটস’ বা পুরুষ অধিকার কর্মীরাও সরব হন।
এক পুরুষ অধিকার কর্মী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিমঝিতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান। সোমবার সিমঝিতার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপর বুধবার গ্রেপ্তার হন এই নারী।