১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিহত হওয়ার এক বছর পূর্তিতে হাসান নাসরাল্লাকে স্মরণ হিজবুল্লাহর

ইসরায়েলের সঙ্গে ২০০৬ সালে ৩৪ দিনের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ আরব বিশ্বের বহু মানুষের কাছে নাসরাল্লাকে নায়ক বানায়।

নিহত হওয়ার এক বছর পূর্তিতে হাসান নাসরাল্লাকে স্মরণ হিজবুল্লাহর
এক বছর আগে ইসরায়েলের হামলার বৈরুতের যেখানে হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হয়েছিলেন সেখানে জড়ো হয়েছেন তার সমর্থকরা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Sep 2025, 05:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:22 PM

ইসরায়েলি হামলায় তাদের তৎকালীন প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার এক বছর পূর্তিতে শনিবার তাকে স্মরণ করছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরায়েলের বাঙ্কার ভেদী বোমা হামলায় প্রাণ হারান নাসরুল্লাহ।

৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হিজবুল্লাহকে নেতৃত্ব দেওয়া নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পরপরই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা গোষ্ঠীটির জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়ায়। নাসরুল্লাহর উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হাশেম সাফিয়েদ্দিনকেও কয়েক সপ্তাহ পর হত্যা করা হয়। ডিসেম্বরের মধ্যেই হিজবুল্লাহর আঞ্চলিক মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এখন সংগঠনটির নিরস্ত্রীকরণের দাবি জোরালো হলেও হিজবুল্লাহ সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

১৯৯২ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে সংগঠনের প্রধানের দায়িত্ব নেন নাসরুল্লাহ, তার পূর্বসূরি আব্বাস আল-মুসাভি ইসরায়েলের হেলিকপ্টার হামলায় নিহত হওয়ার পর। অগ্নিগর্ভ বক্তৃতার মধ্য দিয়ে তিনি দ্রুতই ইরানি অভিভাবকত্বে জন্ম নেওয়া গোপন গোষ্ঠীটির প্রকাশ্য মুখ হয়ে ওঠেন।

২০০০ সালে হিজবুল্লাহর গেরিলারা ইসরায়েলি বাহিনীকে দক্ষিণ লেবানন ছাড়তে বাধ্য করলে তিনি ‘খোদা প্রদত্ত বিজয়’ ঘোষণা করেন। এরপর ২০০৬ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে ৩৪ দিনের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ আরব বিশ্বের বহু মানুষের কাছে তাকে নায়ক বানায়।

সময় গড়ানোর সঙ্গে হিজবুল্লাহ লেবাননের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিকভাবে ইরানের তথাকথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর নেতৃত্ব দেয়, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের হয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ইয়েমেনে হুতিদের প্রশিক্ষণ দেয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ইসরায়েলে আক্রমণে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে পরদিন দক্ষিণ লেবানন থেকে গোলা ছুড়ে যুদ্ধে যোগ দেয় হিজবুল্লাহ। এর জেরে প্রায় এক বছর সীমান্তে গোলাগুলি চলতে থাকে। পরে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর পেজার ও ওয়াকিটকি নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিস্ফোরক হামলা চালায়, আকাশ ও স্থল আক্রমণে লেবাননের বহু এলাকা ধ্বংস করে। ইসরায়েলের এই অভিযানে লেবাননে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৩০০-র বেশি শিশু।

ইসরায়েলের ব্যাপক আক্রমণের কারণে নাসরুল্লাহর দাফন কয়েক মাস বিলম্বিত হয়। তবে তার কবর এখন অনুসারীদের প্রার্থনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

শনিবার বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরসহ লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে সমাবেশ ডেকেছে হিজবুল্লাহ। নতুন মহাসচিব নাঈম কাসেম সেখানে ভাষণ দেবেন।

গত সপ্তাহে বৈরুত উপকূলের বিখ্যাত সুউচ্চ পাথরের উপরে নাসরুল্লাহ ও সাফিয়েদ্দিনের ছবি স্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম ও বৈরুতের মেয়র নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও হিজবুল্লাহ সেখানে ছবি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। এতে তাদের বিরোধীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, প্রাকৃতিক ওই পাথরগুলো রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত।