লেবাননে বৈঠকে হামাস, ইসলামিক জিহাদ ও হিজবুল্লাহ নেতারা
লেবাননে হিজবুল্লাহ দেশটির সরকারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
অনলাইনে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটি ছবি ঘুরছে। যে ছবিতে হামাস ও ইসলামিক জিহাদ নেতাদের লেবাননে শিয়া মুসলিম মিলিশিয়া ও পলিটিক্যাল মুভমেন্ট হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে।
বিবিসি জানায়, লেবাননে সব থেকে ক্ষমতাশালী পর্ষদ হিজবুল্লাহ। তারা লেবানন সরকারের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। হিজবু্ল্লাহর সামরিক শাখা আঞ্চলিক শক্তি ইরানের কাছ থেকে পূর্ণ সমর্থন, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র পায়।
ইরান হিজবুল্লাহকে ওই অঞ্চলে তাদের প্রতিরক্ষা অগ্রগতি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বিবেচনা করে। হিজবুল্লাহর কাছে বিভিন্ন পাল্লার প্রায় দেড় লাখ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেই সঙ্গে হাজার হাজার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোদ্ধা। যারা সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশাল আল-আসাদের হয়ে লড়াই করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজার সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল মধ্যে সংঘাত চলছে। এ সবের মধ্যে একটি বড় ভয় ও বিপদ হলো লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের গোলাগুলির খবর এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে। হিজবুল্লাহ ওই অঞ্চলে খুবই শক্তিশালী।
বিবিসির প্রতিনিধি বলেন, “সত্যি বলতে, আমার ধারণা এই সংগঠনগুলোর পরষ্পরের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয়। কিন্তু এবার তারা তাদের বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার কারণ, খানিকটা ইসরায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং খানিকটা তারা নিজেরা যে চাপের মধ্যে আছে তা মোকাবেলা করতে।”
হিজবুল্লাহ সবসময় ইসরায়েলে হামলা চালানো কথা বলে আসছে। কিন্তু এখন যখন সত্যিই তারা সে সুযোগ পেয়েছে তখন ‘কোনো হামলা করছে না’ তা নিয়ে কেউ কেউ সংগঠনটির সমালোচনা করছে। এমন কী কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে বিবিসি প্রতিনিধি এটাও বলতে শুনেছেন, “হিজবুল্লাহ আমাদের হতাশ করেছে’।
তবে ফিলিস্তিনিরা যতই আশা করুক, দেখেশুনে মনে হচ্ছে, ইরান আরেকটি ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ চাইছে না, অন্তত এখন পর্যন্ত না।
এদিকে, ইরান এবং তাদের লেবানিজ মিত্রকে প্রতিহত করতেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে তাদের একটি রণতরী ভূমধ্যসাগরে এবং আরেকটিকে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করেছে।
