১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ১৮ কম্বোডীয় সেনাকে মুক্তি দিল থাইল্যান্ড

সেনাদের এই মুক্তিকে কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ১৮ কম্বোডীয় সেনাকে মুক্তি দিল থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ড থেকে ফেরত পাঠানো কম্বোডীয় সেনারা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Dec 2025, 09:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:28 PM

কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘাতের পর সই হওয়া নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে মুক্তি দিয়েছে থাইল্যান্ড। 

বুধবার দুই দেশের কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে এই আটক সেনাদের মুক্তি দেওয়া হয়। গত শনিবার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এটিই ছিল শান্তি প্রক্রিয়ার প্রথম বড় কোনও অর্জন। 

এই চুক্তির মাধ্যমে দেশ দুটির মধ্যকার প্রায় ২০ দিনের লড়াইয়ের অবসান ঘটে, যে লড়াইয়ে অন্তত ১০১ জন নিহত এবং ৫ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।

কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচিয়েতা জানান, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় সীমান্ত চেকপয়েন্টে এই ১৮ কম্বোডীয় সেনাকে হস্তান্তর করা হয়। 

তারা দীর্ঘ ১৫৫ দিন ধরে থাইল্যান্ডের হেফাজতে ছিলেন। কম্বোডিয়ার বাত্তামবাং প্রদেশের গভর্নর সক লু ফিরে আসা এসব সেনাকে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটক এই সেনারা বন্দি থাকাকালীন ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও নীতি’ অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা ও মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।

শনিবারের শান্তি চুক্তিতে শর্ত ছিল যে, যুদ্ধবিরতি টানা ৭২ ঘণ্টা টিকে থাকলে থাইল্যান্ড তাদের হাতে থাকা ১৮ কম্বোডীয় সেনাকে মুক্তি দেবে।

তবে রোববার রাতে থাইল্যান্ড তাদের আকাশসীমায় আড়াইশরও বেশি কম্বোডীয় ড্রোন অনুপ্রবেশের মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনর অভিযোগ তুললে আটক সেনা হস্তান্তর প্রক্রিয়া একদিন পিছিয়ে যায়।

কম্বোডিয়া ওই অভিযোগ অস্বীকার করার পর এবং সীমান্তে নতুন কোনও সংঘাত না ঘটায় অবশেষে মুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল। 

গত জুলাই মাসে দুই দেশের সীমান্ত সংঘাতের সময় এই কম্বোডীয় সেনারা আটক হয়েছিল। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রেসিডেন্ট মির্জানা স্পোলজারিক সেনাদেরকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার তদারকি করেছেন। 

তিনি বলেন, “যুদ্ধ বন্দিদের মুক্তি ও প্রত্যাবাসনের ফলে পরিবারগুলো পুনরায় একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেল। এটি যৌথ বিবৃতিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ডিসেম্বরের শুরুতে ভেঙে গেলে সীমান্তে পুনরায় তুমুল লড়াই শুরু হয়।

 এবারের চুক্তিতে আসিয়ান পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।