Published : 20 Mar 2026, 10:28 AM
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও জেরুজালেমে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র বিস্তারিত না জানিয়ে শুধু বলেছেন, “আইডিএফ এইমাত্র ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের কেন্দ্রস্থল তেহরানে তাদের অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানা শুরু করেছে।”
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাস অবকাঠামোতে আঘাত না হানার জন্য ইসরায়েলকে বলেছেন তিনি। এর পরদিনিই ইরানে ফের হামলা শুরু করলো ইসরায়েল। গ্যাস ক্ষেত্রে হামলার পর ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যুদ্ধ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে আর বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই যুদ্ধের সূচনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল।
বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে তারা।
রয়টার্স লিখেছে, পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের একের পর এক হামলায় বিশ্ব বাজার টালমাটাল হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েল ইরানের অতি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর কাতারের রাস লাফান তেল-গ্যাস শিল্পাঞ্চল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই শিল্পাঞ্চল বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশের যোগান দেয়। হামলার এর অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় বন্দরেও বৃহস্পতিবার হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে এই বন্দর দিয়ে কিছু তেল-গ্যাস রপ্তানি করতে সক্ষম। বিশ্বের জ্বালানি তেলের চাহিদার ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি হয়ে সরবরাহ করা হয়, কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান জলপথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে।
তবে ইউরোপের নেতৃস্থানীয় দেশগুলো ও জাপান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করতে সাহায্য করার প্রস্তাব আর যুক্তরাষ্ট্র তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার তেলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে।