Published : 04 Sep 2025, 02:40 PM
ভারতের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভারি বৃষ্টির পর যমুনাসহ দুটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে, এতে দিল্লি ও ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নিম্নাঞ্চলগুলো তলিয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখিয়েছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা; বৃহস্পতিবার তারা বৃষ্টি কমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছেন।
চলতি বছর বর্ষার ভয়ঙ্কর ছোবলে ভারতের ওই অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এতে শুধু অগাস্টেই অন্তত ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর, হিমালয়ের ছিটমহল লাদাখ এবং হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভারি বৃষ্টির পর অনেকগুলো নদীর পানি স্ফীত হয়ে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়।

ঝিলম নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর ওই অঞ্চলের প্রধান শহর শ্রীনগরের আবাসিক এলাকাগুলো তলিয়ে যায়। এরপর কর্তৃপক্ষ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ এক্স এ এক পোস্টে বলেছেন, “ঝিলম উপরে উঠে আসছে, কিন্তু যা আশঙ্কা করা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক কম গতিতে। প্রশাসন সতর্কতা কমাবে না। আমরা খুব নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রাবশাল্লায় চেনাব নদীর রটল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বৃষ্টির মধ্যে একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আবর্জনার নিচে কেউ চাপা পড়েছেন কি না, উদ্ধারকারীরা তা খুঁজে দেখছে।
ভারতের আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাতের ধার কমে আসবে। এ দিন জম্মু ও কাশ্মীরে এবং উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মঙ্গলবার যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন এ পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লির নিম্নাঞ্চলের বহু বাড়িতে কাদামিশ্রিত পানি প্রবেশ করেছে। তবে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে এসব এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ পুরান দিল্লির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদীর ঐতিহাসিক লোহার পুল বন্ধ করে দিয়েছে। নগরীর লাল কেল্লার আশপাশের এলাকাগুলোও ডুবে গেছে। সেখানে লোকজনকে পানি ভেঙে চলাচল করতে দেখা গেছে।
ভারতের রুটির ঝুরি হিসেবে পরিচিত পাঞ্জাব রাজ্যে বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। অগাস্টের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাজ্যটিতে বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বন্যার কারণে কর্তৃপক্ষ বাঁধে আটকে থাকা পানি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে, এতে ভারত ও প্রতিবেশী পাকিস্তানের নতুন নতুন এলাকা বন্যাকবলিত হচ্ছে।