Published : 31 Dec 2025, 11:23 PM
ডিসেম্বর মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাবে এবার মার্কিন নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিল পশ্চিম আফ্রিকার দুই দেশ মালি ও বুরকিনা ফাসো।
মঙ্গলবার গভীর রাতে দেশ দুটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে পৃথক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিপরীতে ‘পারস্পরিকতার’ নামে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংকটের সূত্রপাত:
গত ১৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় মালি ও বুরকিনা ফাসো এবং আরও পাঁচ দেশকে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
হোয়াইট হাউজের দাবি, এই দেশগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং, প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময় এবং যাত্রী যাচাই-বাছাইয়ের (ভ্যাটিং) প্রক্রিয়ায় গুরুতর ঘাটতি দেখিয়েছে।
আগামী ১ জানুয়ারি থেকে দেশগুলোর ওপর এই মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
মালি ও বুরকিনা ফাসোর প্রতিক্রিয়া:
মালি সরকার তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন কোনও ধরনের পূর্ব আলোচনা ছাড়াই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যে যুক্তি দেখিয়েছে তা ‘মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতির’ সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, বুর্কিনা ফাসোও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য তাদের সীমান্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
আফ্রিকাজুড়ে পাল্টা পদক্ষেপের হিড়িক
ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে কেবল মালি বা বুরকিনা ফাসোই নয়, আফ্রিকার অন্য দেশগুলোও পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
গত ২৫ ডিসেম্বরে নাইজার ঘোষণা করেছে যে, তারা মার্কিন নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ খবর নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত জুন মাসে চাদ একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ১২টি দেশের মধ্যে চাদ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা মার্কিন নাগরিকদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে আফ্রিকার এই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হতে পারে।