Published : 15 Jan 2026, 12:39 AM
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার মধ্যে বুধবার হোয়াইট হাউজে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
রুদ্ধদ্বার এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এক ঘণ্টার কম সময় স্থায়ী হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেওয়ার অঙ্গীকার করার পর হোয়াইট হাউজে এই আলোচনার পট প্রস্তুত হয়।
‘বৈঠক ভালয় ভালয় অনুষ্ঠিত হয়েছে’ বলে ডেনিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ডিআর-কে জানিয়েছেন ডেনিশ কর্মকর্তারা। ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, এই বৈঠকে তার লক্ষ্য ছিল আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সামনে একটি যৌথ পথ খুঁজে পাওয়া।
বৈঠক থেকে ডেনমার্ক একটি অভিন্ন সমঝোতায় আসতে চেয়েছে বলে জানান তিনি। তবে রাসমুসেন এও বলেন যে, বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেনমার্কের অবস্থান এখনও ভিন্ন রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে বলেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে ডেনমার্কের অবস্থান ভিন্ন। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক কোনও চুক্তিতে আসতে পারবে কিনা তা জানেন না বলে উল্লেখ করেন রামসুসেন।
ওদিকে, গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোটজফেল্ড বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে না গিয়ে বরং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসাব থাকতে পারে। গ্রিনল্যান্ডকে মিত্র হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তার মানে এই নয় যে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীনে থাকতে চাইব।
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী রাসমুসেনও একথা সমর্থন করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়াটা ‘একেবারেই প্রয়োজনীয় নয়’।
তাছাড়া, রাশিয়া এবং চীনের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের আসন্ন কোনও হুমকি নেই বলেও দাবি করেন রাসমুসেন, যে হুমকির দোহাই দিয়ে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
হোয়াইট হাউজে বৈঠক শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও দাবি করেন যে, রাশিয়ার হুমকি ঠেকাতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা অপরিহার্য।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে লিখেন, “আমাদের প্রস্তাবিত 'গোল্ডেন ডোম' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যাবশ্যক। এটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে নেটো আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। এর চেয়ে কম কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।”
ডেনমার্কের নিরাপত্তা রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “দুটি স্লেজ কুকুর দিয়ে কাজ হবে না! কেবল যুক্তরাষ্ট্রই এটি (নিরাপত্তা নিশ্চিত) করতে পারে।”
তবে গ্রিনল্যান্ড সরকার ও ডেনমার্ক- উভয়ই ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট করেই জানিয়ে আসছে যে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং শক্তি প্রয়োগের হুমকি ‘বেপরোয়া’ কাজ।
তারা ইতিমধ্যেই ২০২৬ সাল জুড়ে আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ডেনমার্ক এক নতুন বিবৃতিতে বলেছে, “তাদের সশস্ত্র বাহিনী গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।”
তবে এই সেনা উপস্থিতি মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতেই বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। এতে আরও বলা হয়, আর্কটিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, আজ থেকে গ্রিনল্যান্ড এবং এর আশেপাশে বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি থাকবে। এই সামরিক উপস্থিতিতে অবদান রাখবে জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন এবং নরওয়েও।
সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পদক্ষেপে নেটো এই জোটের মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে একযোগে বিমান, জাহাজ এবং সেনা মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবিসি জানায়, সুইডেন এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে। বুধবারেই সুইডিশ সশস্ত্র কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের পথে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিসটারসন।
তবে স্টকহোম কতজন সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। তবে ক্রিস্টারসন বলেছেন, মিত্রদেশগুলো থেকে পাঠানো দলের অংশ হিসাবে এই কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডে যাচ্ছেন।
“ডেনমার্কের অপারেশন আর্কটিক এনডিওরেন্স মহড়ার কর্মকাঠামোর মধ্যে পরবর্তী করণীয় নিয়ে তারা একসঙ্গে প্রস্তুতি নেবেন” বলে অনলাইনে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন সুইডিশ নেতা।