শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে তিন দিনেও অফিসে আসতে পারেননি বরিশালের সিভিল সার্জন
সিভিল সার্জনের অপসারণ চেয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে তিন দিনেও নিজের কার্যালয়ে আসতে পারেননি বরিশালের নতুন সিভিল সার্জন মনিরুজ্জামান।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দিনের মত মঙ্গলবার সকাল থেকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থান নিয়ে নাগরিক সমাজের ব্যানারে বরিশাল বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা সিভিল সার্জনের কক্ষ তালাবদ্ধ করে রেখেছেন।
সোমবার সিভিল সার্জনের অপসারণ চেয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সিভিল সার্জনের দপ্তরের প্রবেশ মুখে অবস্থান করছে শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির মধ্যে বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেককে পাওয়া যায়নি। যারা আছেন তাদের মধ্যে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মধ্যেই আলোচনা করছেন।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “তিন দিন ধরে তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না। জরুরি কাজ দায়িত্বরত কর্মকর্তার স্বাক্ষর দিয়ে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সিংহভাগ কাছ পড়ে আছে।”
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, “একজন দুর্নীতিবাজ ও ‘ফ্যাসিস্টের দোসরকে’ সিভিল সার্জন হিসেবে বদলি করা হয়েছে। যা বরিশালের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। বরিশালের স্বাস্থ্যখাতকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে আমরা দুর্নীতিবাজ সিভিল সার্জনের অপসারন চাই। বরিশালে একজন দক্ষ, বিচক্ষণ এবং জনবান্ধব সিভিল সার্জনকে নিযুক্ত করা হোক।”
তিনি বলেন, “তার অপসারণ যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। প্রয়োজনে ঘেরাও কর্মসুচি পালন করব। আমাদের সেই ধরনের প্রস্তুতিও রয়েছে।”
সিভিল সার্জনের যোগদান বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের উপপরিচালক লোকমান হাকিম বলেন, “সরকারের চাকরি বিধি অনুযায়ী, একজন দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন, অন্যজন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কিন্তু আগের জন তিন কার্যদিবসের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ শূন্য হবে। নতুন বদলি হওয়া সিভিল সার্জনের যোগদান হবে। এখানে সেটি হয়েছে।”
এ ব্যাপারে জানতে নতুন সিভিল সার্জন মনিরুজ্জামানকে মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, “নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে আমার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। আমি স্মারকলিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। মন্ত্রণালয় কিংবা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে কেউ যোগাযোগ করেননি। তাই এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে পারছি না।”
আরও পড়ুন:
