৬ সন্দেহভাজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
Published : 15 Sep 2022, 03:57 PM
উত্তর প্রদেশের লখিমপুরে দলিত ২ কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ভারতজুড়ে নারীদের নিরাপত্তাহীনতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
১৭ ও ১৫ বছর বয়সী ওই দুই বোনকে ধর্ষণ, হত্যা এবং পরে মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সেখানকার পুলিশ জানিয়েছে।
ভয়াবহ এ কাণ্ডে দলিত দুই বোন যে গ্রামে থাকতো, সেখানকার বাসিন্দারা স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অসংবেদনশীল আচরণের’ অভিযোগ করছে বলেও জানিয়েছে এনডিটিভি।
জোড়া খুন, ধর্ষণ ও অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টায় যে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা হল- সুহেইল, জুনাইদ, হাফিজুল রেহমান, করিমুদ্দিন ও আরিফ।
প্রতিবেশী ছোটু দুই কিশোরীর সঙ্গে এ ৫ জনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। ছোটুকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দলিত ২ বোনকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জেলা পুলিশপ্রধান সঞ্জীব সুমন সাংবাদিকদের বলেছেন, মঙ্গলবার সুহেইল ও জুনাইদ দুই কিশোরীকে একটি আখক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অন্যরা তাদের অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে সহায়তা করে।
পুলিশ বলছে, এই দুই বোন স্বেচ্ছায় সোহেইল ও জুনাইদের বাইকে করে তাদের সঙ্গে বেরিয়েছিল। পার্শ্ববর্তী গ্রামের এই দুই ছেলের সঙ্গে দুই কিশোরীর ‘বন্ধুত্ব’ ছিল বলেও ভাষ্য তাদের।
অন্যদিকে খুন হওয়া ২ বোনের পরিবার বলছে, তাদের মেয়েদেরকে অপহরণ করা হয়েছিল।
“আখক্ষেতে দুই মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে যখন তারা বিয়ের জন্য জোর করে তখন ওই অপরাধীরা মেয়ে দুটোর ওড়না দিয়েই তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তারপর তারা করিমউদ্দিন ও আরিফকে ডাকে তাদের অপরাধ ঢাকতে। এরপর তারা মৃতদেহ দুটো গাছ থেকে ঝুলিয়ে দেয়, যেন দেখে মনে হয় তারা আত্মহত্যা করেছে,” বলেছেন পুলিশের কর্মকর্তা সঞ্জীব।
দুই কিশোরীর মা বলছেন, মৃতদেহ পাওয়া যাওয়ার তিন ঘণ্টা মেয়েদের অপহরণ করা হয়েছিল।
তিন যুবক জোর করে দুই মেয়েকে তাদের মোটর সাইকেলে তুলে নেয়, অভিযোগ করেছেন তিনি।
পরে আখক্ষেতের পাশে একটি গাছে দুই কিশোরীর মৃতদেহ মেলে। নিজেদের ওড়নাতেই ২ কিশোরীর মৃতদেহ ঝুলছিল। তাদের শরীরে দৃশ্যত অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
পুলিশের সদস্যরা ময়নাতদন্তের জন্য ২ বোনের মৃতদেহ নিতে গিয়ে ক্রুদ্ধ গ্রামবাসীর তোপের মুখেও পড়েছিলেন। গ্রামবাসীরা তাদের রাস্তা আটকে বিক্ষোভও দেখিয়েছিল। একটি ভিডিওতে সঞ্জীব সুমনকে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলতে দেখা গেছে।
গ্রামবাসীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল আচরণের অভিযোগ আনলেও সঞ্জীব তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
“ঘটনাস্থলে হাজারখানেক ক্যামেরা ছিল। আমরা সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতার সঙ্গে এই মামলা দেথছি। শান্তিপূর্ণভাবে সামলানোর চেষ্টা করছি। ২ কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে আমাদের কোনো ঝামেলা নেই,” বলেছেন তিনি।
লখিমপুরের এই ঘটনা ভারতের বাদাউনে হওয়া ২০১৪ সালের আরেক ভীতিকর ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে, সেবার দুই জ্ঞাতি বোনের গাছে ঝুলতে থাকা মৃতদেহ মিলেছিল।
দলিত সম্প্রদায়ের সদস্য, বিশেষ করে নারীদের ওপর একের পর এক নৃশংস ঘটনায় বার বার উত্তর প্রদেশের নাম আসায় বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তুমুল সমালোচনা করে আসছে।