০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আরও ২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

এর দুই দিন আগে একই সাগরে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা করেছিল দেশটি।

আরও ২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে উত্তর কোরিয়া।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Feb 2023, 12:15 PM

Updated : 20 Feb 2023, 12:15 PM

কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলীয় সাগরে আরও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া।

এর দুই দিন আগে শনিবার একই সাগরে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা করেছিল দেশটি। এই পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় রোববার যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ও পরে পৃথকভাবে জাপানের সঙ্গে যৌথ বিমান মহড়া করে।  

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় ক্ষেপণাস্ত্র সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে ছোঁড়া হয়েছে বলে অনুমান তাদের কর্মকর্তাদের এবং তারা এখনও উত্তর কোরিয়ার ওই উৎক্ষেপণ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখছেন।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ‘কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব দিকে’ এবং জাপানের ‘নিবিড় অর্থনৈতিক অঞ্চলের’ বাইরে জাপান সাগরে পড়েছে।  

উত্তর কোরিয়া এই উৎক্ষেপণের কথা স্বীকার করে এটিকে ‘অতি-বৃহৎ একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অনুশীলন’ বলে অভিহিত করেছে। ‘কৌশলগত পারমাণবিক হামলার ক্ষেত্রে’ এগুলো সাহায্য করবে বলে দাবি করেছে তারা। আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বিমান মহড়ার জবাবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো সামরিক মহড়া চালানো হলে ‘নজিরবিহীন শক্তিশালী জবাব’ দেওয়া হবে, শুক্রবার উত্তর কোরিয়া এমন হুমকি দেওয়ার পর রোববার দুই দেশ মিলে যৌথ বিমান অনুশীলন পরিচালনা করে।

কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-১বি কৌশলগত বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে এবং এগুলোকে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-৩৫এ, এফ-১৫কে এবং এফ-১৬ জঙ্গি বিমানগুলো পাহারা দিচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে। 

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কোরীয় পিপলস আর্মি (কেপিএ) দুটি ৬০০ মিলিমিটার রেডিয়াল কামান জড়ো করে সেগুলো থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

৬০০ মিলিমিটারের চেয়ে বড় মাল্টি-রকেট লঞ্চারকে দক্ষিণ কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে বিবেচনা করে, জানিয়েছে সিএনএন। 

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৬টা ৫৯ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং সেটি সর্বোচ্চ প্রায় ১০০ কিলোমিটার উপর দিয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে সাগরে পড়ে। দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭টা ১০ মিনিটে ছোঁড়া হয় এবং সেটি সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার উঁচু দিয়ে উড়ে গিয়ে সাগরে পড়ে।

জাপানের কোস্টগার্ড তাদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে প্রথমে জানায়, উত্তর কোরিয়া সম্ভবত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানায়, তারা শুধু দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক হুমকি প্রতিরোধে সহায়তার লক্ষ্যে মার্চে ওয়াশিংটন ও সিউলের যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর কথা রয়েছে, তার আগেই এসব পরীক্ষা চালালো পিয়ংইয়ং।

 এ ধরনের কোনো মহড়া চালালে তার ‘নজিরবিহীন শক্ত’ প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। তাদের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়ায় আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতি নিতেই এ ধরনের মহড়াগুলোর আয়োজন করা হয়।

রোববার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো-জং এক বিবৃতিতে বলেছেন, যে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের ‘শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য’ জবাব দেওয়া হবে। তিনি উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি এক সামরিক প্যারেডে এক ডজনেরও বেশি আইসিবিএমসহ ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেছে উত্তর কোরিয়া।

আরও খবর:

পুরানো খবর:

এবার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ‍উত্তর কোরিয়ার