ভারত ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ নয়: কংগ্রেসের সমালোচনায় বিজেপি
“প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই দেশ কখনো মাথা নত করেনি, করবেও না,” বলেন বিজেপি মুখপাত্র।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি পণ্ড করতে দিল্লি ও আশেপাশের এলাকায় চালানো পুলিশের ব্যাপক অভিযানকে ‘জনগণের জয়’ বলছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
শনিবার ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন।
তার আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও অল ইনডিয়া স্টুডেন্ট’স অ্যাসোসিয়েশনের নেহা বোরাকেও আটক করা হয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, কর্মসূচি ঘিরে ধরপাকড়ের মধ্যে বিজেপির মুখপাত্র রবি শঙ্কর প্রসাদ বিরোধীদের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন, যার বড় অংশই লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইনডিয়া জোটের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে।
রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, “ভারত কোনো ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই দেশ কখনো মাথা নত করেনি, করবেও না।”
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষে কথা বলেন বিজেপির মুখপাত্র। ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতেই ওই আন্দোলন হচ্ছে।
দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবশালী ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা বিদেশি বাণিজ্যিক স্বার্থের অস্বাভাবিক প্রভাব আছে–এমন রাষ্ট্র বোঝাতে একটি রাজনৈতিক পরিভাষা হিসেবে ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হয়।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে বিদেশি ফল রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের ইতিহাস থেকে এ পরিভাষার উৎপত্তি।
এখন কোনো দেশের শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহির অভাব, আইনের শাসনের দুর্বলতা কিংবা ক্ষমতাসীনদের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে সমালোচনা করার ক্ষেত্রেও ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হয়।
শুক্রবার আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরিতে উপনির্বাচন হয়েছে। আন্দোলনের মধ্যেই এসব উপনির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এর জয়ের প্রসঙ্গ টেনে কথা বলেন রবি শঙ্কর প্রসাদ।
তিনি বলেন, শনিবার ও গত তিন দিনের ঘটনাবলির ওপর ভিত্তি করে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমত, বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দিয়েছে ভারতীয় গণতন্ত্র। দ্বিতীয়ত, দেশ পরিচালিত হবে সংসদ দিয়ে, রাজপথ দিয়ে নয়।
“গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে এসব অপচেষ্টা চলার মধ্যেই প্রতিটি নির্বাচন হয়েছে। বিজেপি বিশেষভাবে তুলে ধরতে চায়, বঙ্গ, আসাম ও পুদুচেরিতে চমৎকার সাফল্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দিল্লি ও দেশের অন্যান্য অংশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির এক আন্দোলন চলছিল।”
সরাসরি সিজেপির নাম না নিলেও কংগ্রেসের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবাদ বা আন্দোলনের বিরুদ্ধে নই, তবে আপনারা নির্বাচনে টানা পরাজয়ের কারণে রাজপথের আন্দোলনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।
“পরাজিত ও হতাশাগ্রস্ত মানুষগুলো গত তিন-চার দিন ধরে দিল্লির সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে এবং রাজপথের আন্দোলনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে আমরা ভারতের জনগণের জন্য গর্বিত। তারা এই ষড়যন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ব্যর্থ করে দিয়েছে।”
চলমান আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের ‘কোনো সমর্থন নেই’ বলে দাবি করেন বিজেপি মুখপাত্র রবি শঙ্কর।
দিল্লিতে শনিবার সকালে সিজেপির অভিজিৎ দীপকে ও অন্যান্য নেতাসহ ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়। দিল্লিজুড়ে বিপুল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের একটি মতবিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে চেন্নাইয়ে থাকা রাহুল গান্ধী পরে এক্সে লেখেন, “সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন।
“আমরা আপনাদের ঘিরে ফেলছি, আর পেছনে ফিরব না। আমার কথা মিলিয়ে নেবেন, আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য আগেই আমরা পেয়ে গেছি...। ভারতের তরুণ সমাজ, আমি তোমাদের জন্য গর্বিত। প্রতিবাদ চালিয়ে যাও। আমরা তোমাদের পাশে আছি।”
