০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ডেমোক্র্যাটরা জিতলে কংগ্রেস ছাড়াই দেশ চালানোর ছক কষছে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে বিরোধী দলের জয়ের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন নানা তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে কাজ চালানোর পথ খুঁজছে।

ডেমোক্র্যাটরা জিতলে কংগ্রেস ছাড়াই দেশ চালানোর ছক কষছে ট্রাম্প প্রশাসন

হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 11:10 PM

Updated : 01 Nov 2026, 11:55 PM

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দল কংগ্রেসে জয়ী হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে যাতে কংগ্রেসে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলেও মূল কর্মসূচিগুলো থেমে না থাকে।

তারা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আসতে পারে এমন নানা তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজছে।

হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত দুইজন একথা জানিয়েছেন।

এই তিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত এপ্রিল মাস থেকে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার, বাজেট পরিচালক রাসেল ভটসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউজের কাউন্সেলের (আইন উপদেষ্টা) কার্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছেন।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই কোন কোন বিষয়ে নির্বাহী আদেশ বা অন্য পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব সেটি খতিয়ে দেখছেন তারা।

যেসব খাতে কংগ্রেসকে পাশ কাটানোর ছক

কংগ্রেসের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে এড়িয়ে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত প্রেসিডেন্টের বিশেষ নির্বাহী আদেশ এবং জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নের ছক কষছে।

অভিবাসন: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা এবং অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের জন্য নিয়মবিধি আরও কঠোর করা।

শুল্ক: জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং উইন্ড টারবাইন আমদানির ওপর নতুন শুল্কারোপ করা।

সরকারি ব্যয়: বাজেট আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের বরাদ্দ দেওয়া অর্থকে ট্রাম্পের নিজস্ব অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পে (যেমন- সীমান্ত প্রাচীর বা বিশেষ সেল) পরিচালিত করা।

আবাসন ব্যয়: আবাসন ও নির্মাণ খরচ কমানোর লক্ষ্যে একক প্রশাসনিক ডিক্রি জারি করা।

হোয়াইট হাউজের কাউন্সেল বা আইন উপদেষ্টা উইল শার্ফ ও তার দলও কংগ্রেসকে ছাড়াই কিভাবে দেশ চালানো যায় সে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

ট্রাম্প নিজের ক্ষমতায় আইনগতভাবে কী করতে পারেন, কোথায় গিয়ে তার ক্ষমতার সীমা বাড়াতে পারেন (আইনের ফাঁকফোকরকে কাজে লাগানো) এবং আদালতে সেই সিদ্ধান্তগুলোকে কীভাবে সমর্থন করতে পারেন- সেসবকিছুই পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা।

এই প্রস্তুতি মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে এক দ্বিমুখী পরিস্থিতিকে সামনে এনেছে। যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে জিতে যায়, তবে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পাবে—যেমন প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা, নতুন আইন প্রনয়ণের উদ্যোগ আটকে দেওয়া এবং সরকারি খরচের অগ্রাধিকারে লাগাম টানা।

কিন্তু তারপরও ট্রাম্পের হাতে প্রধান কিছু ক্ষমতা থেকেই যাবে। তিনি বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে নির্বাহী ক্ষমতাবলে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা তিনি তার দ্বিতীয় মেয়াদে ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে এসেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা উল্টে দিতে ডেমোক্র্যাটদের উভয় কক্ষেই অন্তত চারটি করে আসন বাড়াতে হবে।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। সেনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে।

জনমত জরিপে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে উচ্চকক্ষ সেনেটের লড়াইটা এখনও হাড্ডাহাড্ডি।

গত এক মাসে দেশজুড়ে নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন ট্রাম্প। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে তার সহযোগীরা তলে তলে ২০২৭ সালে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হোয়াইট হাউজ অবশ্য রিপাবলিকানদের আসন হারানোর আশঙ্কা নাকচ করেছে। তাদের দাবি, সংবাদমাধ্যমগুলো এ বিষয়ে ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র লরেন বিস বলেন, এই প্রশাসন ও দায়িত্বশীল রিপাবলিকানরা সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ফেরানো, পরিশ্রমী মার্কিন নাগরিকদের হাতে আরও অর্থ পৌঁছানো এবং জনগণের জন্য সাফল্য অর্জনের কাজ করবে।

নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে ট্রাম্প সম্ভাব্য কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন- সে সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা।

তিনি জানান, এসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উইন্ড টারবাইন আমদানিতে শুল্কারোপ, বিদেশি শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের ভিসার নিয়ম কঠোর করা এবং আবাসন ও নির্মাণ ব্যয় কমানো।

পরিকল্পনা সম্পর্কে জানেন এমন একজন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া সম্ভব এমন সব পদক্ষেপের প্রস্তাব ও আইনি পর্যালোচনা পেশ করেছে।

ওদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় তদারকির দায়িত্বে থাকা বাজেট পরিচালক রাসেল ভট খতিয়ে দেখছেন, কংগ্রেস ইতোমধ্যেই যে অর্থ বরাদ্দ করে রেখেছে, তা দিয়ে সরকারের কোন জরুরি কাজগুলো করা সম্ভব।

পাশাপাশি সরকারি অনুদান দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন আনতে চান রাসেল ভট। এতে কোন সরকারি কর্মসূচিতে করদাতাদের অর্থ দেওয়া হবে সে সিদ্ধান্তে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের আরও বেশি কথা বলার সুযোগ থাকবে।

ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি ব্যয়ের ওপর হোয়াইট হাউজের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে।