Published : 26 May 2026, 07:54 PM
কয়েক দশকের মধ্যে ডিপথেরিয়া রোগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। এই রোগে দেশটিতে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথম একজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
গত মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরি (এনটি) ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং কুইন্সল্যান্ডেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
মূলত ২০২৫ সালের শেষের দিকে ডিপথেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা তীব্র আকার ধারণ করে।
চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২৪৫ জন ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা ১৯৯১ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব। আক্রান্তদের বড় অংশই প্রত্যন্ত আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার নর্দার্ন টেরিটরির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একটি বিদেশি ল্যাবরেটরিতে করা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এপ্রিলে রয়্যাল ডারউইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ ছিল ডিপথেরিয়া। অস্ট্রেলিয়ায় ২০১৮ সালের পর এটিই প্রথম ডিপথেরিয়াজনিত মৃত্যুর ঘটনা।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করায় নতুন সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে বলে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরির (এনটি) স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিভ এজিংটন বলেন, “আমাদের সরকার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আমরা এই প্রাদুর্ভাবের কারণগুলো বোঝা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোরভাবে কাজ করছি।”
তিনি জানান, গত ৩০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪০৭ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
গত বছর জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত নর্দার্ন টেরিটরিতে ১৬৩ জন ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮ জনের শ্বাসতন্ত্রে ডিপথেরিয়া সংক্রমণ এবং ১১৫ জনের ত্বকে ডিপথেরিয়া সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
এছাড়া গত মার্চে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার (ডব্লিউএ) স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দুই জনের শরীরে শ্বাসতন্ত্রের ডিপথেরিয়া শনাক্ত করেন। গত ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলে এই ধরনের সংক্রমণ এটিই প্রথম।
চলতি বছর মোট আক্রান্তের ৬০ শতাংশই নর্দার্ন টেরিটরির বাসিন্দা। এর পরেই রয়েছে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, যেখানে আক্রান্তের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। তাছাড়া সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং কুইন্সল্যান্ডেও অল্প কিছু রোগী শনাক্ত হয়েছে।
ডিপথেরিয়ার এই প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্কদের টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নর্দার্ন টেরিটরির স্বাস্থ্য বিভাগ ডারউইন, ক্যাথরিন এবং অ্যালিস স্প্রিংসে অস্থায়ী ক্লিনিক স্থাপন করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ রোধ, সুরক্ষা এবং বিস্তার কমানোর জন্য টিকাই হল “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”।
ডিপথেরিয়ার দুটি ধরনই টিকার মাধ্যমে পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। সাধারণত শিশুদের দুই মাস থেকে চার বছর বয়সের মধ্যে এই টিকার পাঁচটি ডোজ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যে একটি বুস্টার ডোজ দেওয়া লাগে।
শ্বাসতন্ত্রের ডিপথেরিয়া হলে সাধারণত জ্বর, গলা ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট বা খাবার গিলতে সমস্যা হয়, যা রোগীর জীবন সংশয়ের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, ত্বকের ডিপথেরিয়ার কারণে শরীরে ক্ষত বা আলসার তৈরি হয়, যা নিরাময় হতে সময় লাগলেও সাধারণত মারাত্মক রূপ নেয় না।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গণমাধ্যম এবিসি-র তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালে ডিপথেরিয়ায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।
গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার চিফ মেডিকেল অফিসার অধ্যাপক মাইকেল কিড ডিপথেরিয়ার এই প্রাদুর্ভাবকে ‘জাতীয় তাৎপর্যপূর্ণ সংক্রামক ব্যাধি’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের জোগান দিতে সরকার ইতিমধ্যেই ৭২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।