হাইকোর্টে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মিলল না, আটকেই রইলেন কেজরিওয়াল

আবগারি দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে। এরপর নিম্ন আদালত তাকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 March 2024, 05:53 PM
Updated : 27 March 2024, 05:53 PM

ভারতের রাজধানী দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল হাইকোর্টে যাওয়ার পরও তাৎক্ষণিকভাবে মিলল না স্বস্তি। বুধবারের শুনানিতে জামিন পেলেন না তিনি। অন্তত আরও একটি রাত জেলেই থাকতে হচ্ছে তাকে। কারণ, বৃহস্পতিবার তার হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। 

আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এর হাতে গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার হন কেজরিওয়াল। শুক্রবার নিম্ন আদালত তাকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

এরপরই গ্রেপ্তারির বিরোধিতা করে এবং নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের জন্য দিল্লির হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন কেজরিওয়াল।

কিন্তু বুধবার সেই আবেদনের ভিত্তিতে কেজরিওয়ালকে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি দিতে রাজি হয়নি দিল্লি হাইকোর্ট। তবে ইডি’র জবাবও তলব করেছে আদালত। আগামী ২ এপ্রিল, মঙ্গলবারের মধ্যে ইডির থেকে জবাব তলব করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি হবে ৩ এপ্রিল।

এনডিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার কেজরিওয়ালের ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হলে তাকে আবারও দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে হাজির করা হবে। সেখানে ইডি’র পক্ষ থেকে কেজরিওয়ালের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানানো হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বুধবার আদালতে কেজরিওয়ালের আবেদনের শুনানি চলাকালে তার আইনজীবীরা অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন।

ওদিকে আদালত বলে, "কোনও মামলায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভাবে দুই পক্ষের বয়ান শোনাই আদালতের কর্তব্য। বিচারব্যবস্থার নীতি মেনেই সব পক্ষের কথা শোনা জরুরি।"  তাই ইডি’র বক্তব্য শুনতে চায় আদালত।

কিন্তু আদালতে ইডি’র হয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা অতিরিক্ত সলিসটর জেনারেল এসভি রাজু জানান, কেজরিওয়ালের আবেদনের প্রতিলিপি মঙ্গলবারই হাতে পেয়েছেন তারা। তাই জবাব দিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন তাদের। এর পর ইডি-কে ২ এপ্রিলের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেয় আদালত।

ইডি’র এই সময় চাওয়াকে ‘কালক্ষেপণ কৌশল’ বলে সমালোচনা করেছেন কেজরিওয়ালের আইনজীবীরা। ইডি’র বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন কেজরিওয়ালের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি বলেন, "জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া গ্রেফতারিতেই বোঝা যাচ্ছে, এ পদক্ষেপের নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে।" 

কেজরিওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই ইডি গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করছে তার দল আম আদমি পার্টি (আপ)। এ নিয়ে ইডি কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও, কেজরিওয়ালই আবগারি দুর্নীতির মূল হোতা বলে দাবি করেছে তারা। 

ওদিকে, কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতা বুধবারেই এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন,  ২৮ মার্চে আদালতেই সব তথ্য দেবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দেবেন মদ কেলেঙ্কারির অর্থ কোথায় কাদের কাছে গেছে।

তিনি দাবি করেন, ‘ইডি গত দুই বছরে শত শত তল্লাশি অভিযান চালিয়েও কোথাও মদ কেলেঙ্কারির কোনও অর্থকড়ি পায়নি। তাহলে অর্থ গেল কোথায়? সেই রহস্যেরই সমাধান করবেন কেজরিওয়াল। দেশবাসীকে জানাবেন এই অর্থ কোথায় আছে।

বুধবার কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে দিল্লি বিধানসভায়। আপ বিধায়কদের পরনে ছিল হলুদ টি শার্ট, তাতে লেখা ছিল ‘আমিও কেজরিওয়াল’।

তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিধানসভায়। আর ভারতীয় জনতা পার্টিও (বিজেপি) এদিন কেজরিওয়ালের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিয়েছে।