‘অবন্ধু’ দেশের তালিকা করছে রাশিয়া
ইউক্রেইনে সামরিক অভিযানের পর পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় প্রায় এক ঘরে হয়ে পড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন অবন্ধু দেশের তালিকা তৈরিতে হাত দিয়েছেন।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাস সোমবার এক প্রতিবেদনে এমন খবর দিয়ে জানিয়েছে, যেসব দেশে রাশিয়ার সঙ্গে অবন্ধুসুলভ আচরণ করছে, তাদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
এই তালিকায় প্রত্যাশিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো রয়েছে, যারা যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, রুশ বিমানের জন্য নিজেদের আকাশ বন্ধ করে দিয়েছে।
ইউরোপের মন্টিনিগ্রো, সুইজারল্যান্ড, আলবেনিয়া, অ্যান্ডোরা, আইসল্যান্ড, লিখটেনস্টাইন, মোনাকো, নরওয়ে, সান ম্যারিনো, উত্তর মেসিডোনিয়া রয়েছে এই তালিকায়।
অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ডের পাশাপাশি এশিয়ার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরকেও অবন্ধু দেশের তালিকায় রেখেছে রাশিয়া।
সেই সঙ্গে যোগ করা হয়েছে তাইওয়ানের নাম, যাকে চীন নিজেদের অংশ বলেই মনে করে।
রাশিয়া ফেডারেশনের সরকার সোমবার এই তালিকা অনুমোদন করে বলে তাস জানিয়েছে, যে সরকারের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে পুতিন পরিচিত।
রুশ বাহিনীর গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মারিওপোলের একটি আবাসিক ভবন। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন নেটো জোটে ইউক্রেইনের যোগ দেওয়ার আগ্রহের ঘোর বিরোধী রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তার প্রতিবেশী দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই যুদ্ধের ১২ দিনে ইউক্রেইনের বিভিন্ন শহরে গোলাবর্ষণ চালিয়েছে রাশিয়ার বাহিনী, নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বেশ কিছু এলাকা। যুদ্ধে ভয়াবহতায় ইউক্রেইন ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে ১২ লাখের বেশি মানুষ।
অভিযান শুরুর পর খোদ পুতিনসহ রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা।
আন্তঃব্যাংক লেনদেনের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম সুইফট থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ভিসা ও মাস্টারকার্ড এবং অ্যাপল পে ও গুগল পে সেবা থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া সরকারের সোমবার অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুসারে দেশটির সরকার ও দেশটির নাগরিক, সংস্থা এবং কর্তৃপক্ষগুলো, যাদের বিদেশি ঋণদাতাদের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের প্রয়োজন রয়েছে, তারা অবন্ধু তালিকা অনুসারে এখন থেকে রুশ মুদ্রা রুবলে অর্থ দেবে।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়া রাশিয়ার বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলও ছোট হয়ে এসেছে।
ইউক্রেইন অভিযানের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব রাশিয়া ভিটো ক্ষমতা দিয়ে আটকে দিলেও সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তা পাস হয়েছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা ওই প্রস্তাবে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪১টি দেশ সমর্থন দেয়। ভোট দানে বিরত ছিল ৩৫টি দেশ।
অন্যদিকে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার পাশে ছিল বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া ও সিরিয়া।
