রাশিয়ার ব্যাংক ও ধনকুবেরদের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
পূর্ব ইউক্রেইনের দুই অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সেনা পাঠানোর নির্দেশের জেরে রাশিয়ার পাঁচটি ব্যাংক এবং তিন ধনকুবেরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
বিবিসি জানায়, রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রোসিয়া, আইএস ব্যাংক, জেনারেল ব্যাংক, প্রোমসভায়াজ ব্যাংক এবং ব্ল্যাক সি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে বলে এমপি’দের কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন জনসন।
আর তিন ধনকুবের হচ্ছেন- গেনেডি তিমচেনঙ্কো, বরিস রোটেনবার্গ এবং ইগোর রোটেনবার্গ। নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাজ্যে তাদের সব সম্পদ জব্দ করা হবে এবং দেশটিতে তাদের ভ্রমণও নিষিদ্ধ থাকবে। যুক্তরাজ্যের কোনও নাগরিক তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করা কিংবা সম্পর্ক রাখতে পারবেন না।
জনসন বলেছেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ড ‘নতুন করে আগ্রাসন’ চালানোরই সামিল। এ সংকট সহসাই কাটবে না বলে জনসন ব্রিটিশ এমপি’দেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন। পরিস্থিতি আরও উত্তেজনার দিকে মোড় নিলে এই নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইইউ রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য এবং রুশ সেনাবাহিনীকে অর্থায়ন করা ব্যাংকগুলোকে নিশানা করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নিজস্ব প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে।
ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলগুলোতে আমেরিকানদের অর্থায়ন, বাণিজ্য ও নতুন বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করে একটি নির্বাহী আদেশ সই করেছেন। বাইডেনের এই পদক্ষেপের পরই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জনসন রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দেন।
ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন।
পুতিন ডিক্রি জারির পরপরই সোমবার দোনেৎস্ক শহরের ভেতর দিয়ে রাশিয়ার ট্যাংক এবং সামরিক বহর যেতে দেখা গেছে। ক্রেমলিনের ভাষায়, এই সৈন্যবাহিনী সেখানে ‘শান্তিরক্ষায়’ দায়িত্ব পালন করবে। যুক্তরাষ্ট্র ক্রেমলিনের এই যুক্তিকে ফালতু কথা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
