২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মিয়ানমার সফরে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চান আসিয়ানের দূত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট- আসিয়ানের বিশেষ দূত এরিওয়ান ইউসুফ বলেছেন, মিয়ানমারের সফরের সময় তিনি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চান।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2021, 01:32 PM

Updated : 02 Aug 2022, 06:11 PM

মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূতের দায়িত্ব পাওয়া ব্রুনেইয়ের এই কূটনীতিক শনিবার বলেন, রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা মিয়ানমারে তিনি যখন সফর করবেন, ওই সময় তাকে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।

তবে ইউসুফ কবে মিয়ানমার সফরে যাবেন, সে দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সামরিক জান্তা। তারা ক্ষমতাসীন এনএলডি দলের প্রধান অং সান সু চিসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাকেও গ্রেপ্তার করে।

মিয়ানমারের মনবিক সহায়তা কার্যক্রম দেখভাল করা, সহিংসতা থামানোর চেষ্টা এবং সামরিক জান্তা ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু করার উপায় খুঁজতে আসিয়ানের পক্ষ থেকে ইউসুফ এরিওয়ানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভ্যুত্থানের পর থেকেই সেখানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলছে, যা কঠোর হাতে দমন করছে সামরিক বাহিনী। সংঘাত-সহিংস তায় এরইমধ্যে প্রাণ গেছে হাজারো মানুষের।

শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্ষুদ্র দেশ ব্রুনেইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে সেদেশের দ্বিতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ বলেন, মিয়ানমারে তার পরিকল্পিত সফর অপেক্ষমাণ, এবং তিনি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই সেখানে যেতে চান। এর আগে তিনি জুনে যখন সফর করেছিলেন, সেরকম কিছু তিনি চান না।

মিয়ানমারের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অবশ্য ইউসুফকে সময় দিতে রাজি নন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, আসিয়ানের উচিত আগে জান্তা-বিরোধীদের এবং অন্যান্য পক্ষের পরামর্শ নেওয়া।

জাতিসংঘ এবং অনেক দেশ আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা তাদের সদস্য রাষ্ট্র মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করে।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান বলেন, আলোচনা শুরু করতে আসিয়ানের উদ্যোগ কার্যকরে কতোটা সময় লাগতে পারে তা এখনই বলার সময় আসেনি।

“রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য হলেও তা কঠিন এবং আমার দৃষ্টিতে তার জন্য দীর্ঘ দর কষাকষি ও আলোচনা দরকার।”

মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলকারী জান্তা প্রধান মিন অং হ্লায়িং নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করে এ সপ্তাহে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা ২০২৩ সালে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবেন।

তার দাবি, সাংবিধানের আওতায় থেকেই সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে এবং একে সামরিক অভ্যুত্থান বলতেও তিনি রাজি নন। নিজেদেরকে জান্তা হিসেবে বর্ণনাতেও আপত্তি আছে তাদের।