রাশিয়ায় ইউক্রেইনের হামলায় নিহত বেড়ে ২০
শনিবারের ওই হামলায় ইউক্রেইন এমনকি ক্লাস্টার বোমাও ব্যবহার করেছে বলে দাবি করে রাশিয়া এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে।
রাশিয়ার প্রাদেশিক রাজধানী বেলগোরদে ইউক্রেইনের ‘নির্বিচার’ হামলায় দুই শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১১১ জন।
শনিবারের ওই হামলায় ইউক্রেইন এমনকি ক্লাস্টার বোমাও ব্যবহার করেছে বলে দাবি করে রাশিয়া এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে টেলিগ্রামে এক পোস্টে বলা হয়, “আজ, কিইভ সরকার নিষিদ্ধ ক্লাস্টার কনফিগারেশনে দুইটি ‘ওলখা’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি চেকপ্রজাতন্ত্রের তৈরি ভ্যাম্পায়ার রকেট দিয়ে বেলগোরদ নগরীতে নির্বিচারে সম্মিলিত হামলা চালিয়েছে।
“এই অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি পেতে হবে।”
ইউক্রেইনের উত্তর সীমান্তের পাশেই রাশিয়ার বেলগোরদ অঞ্চল। খারকিভ থেকে রাশিয়ার বেলগোরদ নগরীর দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার। দেশটির অন্যান্য সীমান্তাঞ্চলের মত বেলগোরদেও সারা বছরই গোলা বর্ষণ এবং ড্রোন হামলা হয়েছে। যেসব হামলার জন্য ইউক্রেইনকে দায়ী করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তবে আগের কোনো হামলা শনিবারের হামলার মত এতটা ভয়াবহ ছিল না।
স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইউক্রেইনের খারকিভ অঞ্চলের একাধিক স্থান থেকে রকেট ছোঁড়া হয়। যেগুলো বেলগোরদ শহরের কেন্দ্রীয় ক্যাথেড্রাল স্কোয়ারে একটি স্কেটিং রিঙ্ক, একটি শপিংস্ট্রিট এবং আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে।
কিইভের পক্ষ থেকে এ হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো আসেনি। তবে দেশটির একটি সংবাদ মাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, আগের দিন শুক্রবার ইউক্রেইনের বিভিন্ন নগরীতে রাশিয়ার বোমা বর্ষণের জবাব দিতে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী বেলগোরদে রাশিয়ার একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার ইউক্রেইন জুড়ে রাশিয়ার হামলায় ৩৯ জন নিহত হয়। আহত হয়েছে ১৬০ জনের বেশি মানুষ। শুক্রবারের হামলাকে ২০২২ সালে ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক দিনে রাশিয়ার সবচেয়ে তীব্র ও প্রাণঘাতী আকাশ হামলা বলে বর্ণনা করেছে কিইভ। এদিন কিইভ, ওডেসা, নিপ্রো, খারকিভ এবং লভিভসহ আরো কয়েকটি অঞ্চলে একসঙ্গে হামলা চালানো হয়।
শুক্রবারের ওই হামলা জবাব দিতেই ইউক্রেইন শনিবার বেলগোরদে হামলা চালিয়েছে।
শনিবার দিনভরই বেলগরোদ অঞ্চলে বিমান হামলার সাইরেন বেজেছে। আঞ্চলিক গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ গ্লাদকভ সব বাসিন্দাকে শেল্টারে চলে যেতে অনুরোধ করেছেন।
রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, দুই ‘ওলখা’ ক্ষেপণাস্ত্রসহ ইউক্রেইনের ছোঁড়া বেশিরভাগ রকেটই তারা গুলি করে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এদিন ইউক্রেইন থেকে ছোঁড়া ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩২টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়া। কিন্তু সেগুলোর জ্বলন্ত টুকরো নগরীতে পড়েছে।
যাতে প্রায় ২২টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও অনেকগুলো বাণিজ্যিক অবকাঠামো, শপিংসেন্টার, দোকান এবং শতাধিক গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোর বেশির ভাগই আগুন লেগে পুড়ে গেছে।
জরুরি পরিষেবা মন্ত্রণালয়ের পোস্ট করা ছবিতে অন্তত তিনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া গাড়ি দেখা গেছে। ছবিতে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাঙা জানালাও ছিল। নগরী থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। অন্তত দুইজন স্থানীয় বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, তারা আকাশ সুরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রকে উড়তে দেখেছেন। তারপরই বিকট শব্দে আকাশে বিস্ফোরণ হয়েছে।
ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়াত্ত সংবাদ সংস্থা রিয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেলগোরদে স্বাস্থ্যকর্মী এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীদের একটি দলকে পাঠিয়েছেন।
বেলগোরদে হামলার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া খারকিভের কেন্দ্রাঞ্চলে দুইটি এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেইন। হামলায় ১৬ ও ১৪ বছরের দুই কিশোরসহ ২১ জন আহত হয়েছেন।
ওই দুই ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি খারকিভ প্যালেস হোটেল এবং অন্যটি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আঘাত হানে।
আরও পড়ুন:
