ট্রাম্পের ঘোষণার পরও ইউক্রেইনের ৬ জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলা
“যুদ্ধবিরতির ফলে যে সাময়িক স্বস্তি আসতে পারে, ইউক্রেইন তার যোগ্য নয়,” বলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাশিয়া ও ইউক্রেইন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা চালাবে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রম্প ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা বাদে ইউক্রেনের ছয়টি জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ অভিযোগ করে বলেছেন, রাশিয়ার হামলায় দেশজুড়ে ৩৩ জন আহত হয়েছেন।
ট্রাম্প রোববার যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দিলেও জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেইনের গ্যাস স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এ হামলা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের তরফে ট্রাম্পের প্রতি জবাব বলে মন্তব্য করেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট।
ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা ইউক্রেইনেরগো বলছে, রাশিয়ার হামলায় জ্বালানি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খারকিভ, দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়ায় নতুন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের ওপর চাপ কমাতে দেশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে রেশনিং করা হচ্ছে।
কিইভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, সোমবার সন্ধ্যায় শহরের দারনিতস্কি এলাকায় একটি ড্রোন ২৫ তলা আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। ভবনটির আঙিনায় কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সোমবার বলেন, যুদ্ধবিরতির ফলে যে সাময়িক স্বস্তি আসতে পারে, ইউক্রেইন তার যোগ্য নয়।
কয়েক মাস ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেইন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এতে উভয় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ২৭৩টি। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১২৪টি।
অন্যদিকে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার (এসিএলইডি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর ইউক্রেনের জ্বালানি নেটওয়ার্কে প্রভাব ফেলেছে—এমন রুশ হামলার খবর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪ গুণ বেশি।
মস্কোর ভাষ্য, ইউক্রেইনের সামরিক অভিযানে সহায়তা করে—এমন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো বৈধ।
অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ইউক্রেইনের হামলাকে রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়ন সক্ষমতা কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন জেলেনস্কি।
রোববার ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও জেলেনস্কি বলেছিলেন, বিষয়টি তার কাছে নতুন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য করলে এই উদ্যোগ যুদ্ধ শেষ করার পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প ইউক্রেইনকে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের চুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চুক্তির আওতায় জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। জেলেনস্কি এ পদক্ষেপকে পুতিনের জন্য ‘উপহার’ বলে বর্ণনা করেছেন।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
তবে ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কাজ করছে না।
