১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশের কথা স্বীকার করলেন হামাসবিরোধী মিলিশিয়া নেতা

ইসরায়েলি সরকারি আরবি ভাষার রেডিও চ্যানেল মাকানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ স্বীকারোক্তি দেন ইয়াসির আবু শাবাব।

ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশের কথা স্বীকার করলেন হামাসবিরোধী মিলিশিয়া নেতা
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক যান। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Jul 2025, 05:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:19 PM

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার একটি এলাকায় সক্রিয় মিলিশিয়া বাহিনী ‘পপুলার ফোর্সেসের’ প্রধান ইয়াসির আবু শাবাব বলেছেন, তার যোদ্ধারা গাজা ভূখণ্ডের কেন্দ্রে বাস করা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত তরুণ এবং তাদের কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই।

ইসরায়েলি সরকারি আরবি ভাষার রেডিও চ্যানেল মাকানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বলেছেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

এটাই প্রথম এই মিলিশিয়া নেতার সরাসরি সাক্ষাৎকার; আগে তিনি ইমেইলে সাক্ষাৎকার এবং বিবৃতি পাঠের ভয়েস রেকর্ডিং পাঠাতেন।  

গত সপ্তাহে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার একটি আদালত আবু শাবাবকে আত্মসমর্পণের জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা, ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজশ ও সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগ এনেছে তারা।

আদালত বলেছে, আত্মসমর্পণ না করলে আবু শাবাবের অনুপস্থিতিতেই তার বিচার হবে।

গাজার হামাসবিরোধী মিলিশিয়া বাহিনী পপুলার ফোর্সেসের নেতা ইয়াসির আবু শাবাব। ছবি: পপুলার ফোর্সেস/ফেইসবুক/আল জাজিরা

গাজার হামাসবিরোধী মিলিশিয়া বাহিনী পপুলার ফোর্সেসের নেতা ইয়াসির আবু শাবাব

আল জাজিরা, গার্ডিয়ানসহ একাধিক গণমাধ্যম বলছে, হামাস ও গাজার অনেকের কাছে ‘ইসরায়েলি চর’, ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে পরিচিত আবু শাবাব রাফা এলাকায় শতাধিক সশস্ত্র যোদ্ধার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে গাজাবাসীর জন্য যাওয়া মানবিক ত্রাণ লুটের অভিযোগও রয়েছে।

কয়েকদিন আগেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তারা হামাসকে দুর্বল করতে একটি মিলিশিয়া বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন। সেই বাহিনীটিই ‘পপুলার ফোর্সেস’, ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

তেল আবিবের এমন পদক্ষেপে গাজায় গৃহযুদ্ধ বেধে যেতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।

মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে ২০২৩ সালেও হামাস নিয়ন্ত্রিত কারাগারে বন্দি ছিলেন আবু শাবাব। ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করলে এক পর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান। তিনি কীভাবে পালিয়েছেন, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

এরপর আবু শাবাবের নাম আবার গণমাধ্যমে আসে সপ্তাহ দুয়েক আগে। তখনই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, তারা গাজায় হামাসবিরোধী একটি মিলিশিয়া বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছেন। পপুলার ফোর্সেসও তাদের ফেইসবুকে নানান বিবৃতি এবং আবু শাবাবের একাধিক ছবি প্রকাশ করতে শুরু করে।  

“আমরা হামাসের অন্যায্য ও দুঃসহ দমন-পীড়নের তিক্ত স্বাদ পেয়েছি, আর এই আগ্রাসন মোকাবেলার দায়িত্ব নিজেরাই কাঁধে তুলে নিয়েছি। হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না, এমনকি গৃহযুদ্ধও হতে পারে, মূল্য যাই হোক না কেন,” মাকানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন আবু শাবাব।

তার বাহিনীর সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) যে এক ধরনের যোগাযোগ আছে, সাক্ষাৎকারে প্রথমবার মতো তা স্বীকারও করেছেন তিনি।

“ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় আমরা যে নিরাপত্তা পেয়েছি, এমনটা কোথাও পাইনি। আমরা এসব এলাকায় প্রবেশ করে যেসব অভিযান চালিয়েছি, তাতে প্রত্যাশার বেশি সফলতা এসেছে।

“লক্ষ্য যদি (আইডিএফ থেকে) সহায়তা ও সহযোগিতাই হয়, এর বেশি নয়, কোনো অভিযানে গেলে আমরা তাদেরকে জানিয়ে যাই, তার বেশি কিছু নয়, তারপর আমরাই সামরিক অভিযান চালাই,” বলেছেন তিনি।

গাজা চুক্তি হতে পারে 'আগামী সপ্তাহেই', হামাসের প্রতিক্রিয়ার পর

ইসরায়েলের বেড়ায় পশ্চিম তীরের সিনজিল যেন এক 'বিশাল কারাগার'

পশ্চিমাদের কল্পনার 'নতুন মধ্যপ্রাচ্যযে কারণে 'অবান্তর'