Published : 16 Jan 2026, 08:04 PM
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে প্রাণহানি এবং সহিংস গ্রেপ্তার অভিযানের জেরে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
রয়টার্স/ইপসোস-এর নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই এখন অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ৯৫ শতাংশ রিপাবলিকানের সমর্থন থাকলেও সোম ও মঙ্গলবারে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযানে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের প্রশ্নে তারা একমত হতে পারছে না।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম হলেও কর্মকর্তাদের কি জানমালের ক্ষতি এড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, নাকি মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি থাকলেও বলপ্রয়োগ করা উচিত?
এ প্রশ্নে ৫৯% রিপাবলিকান মনে করেন, অভিযানে মানুষ আহত হলেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আর ৩৯% রিপাবলিকান মনে করেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম হলেও মানুষের ক্ষতি কমানোর ওপর জোর দেওয়া উচিত।
বিপরীতে, ৯৬% ডেমোক্র্যাট জানমালের ক্ষতি এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। আর ৪ শতাংশ বলেছেন, গ্রেপ্তার করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাছাড়া, গুটিকয়েকজন এ প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি।
রেনি গুড হত্যাকাণ্ড ও জনপ্রিয়তায় ধস:
গত ৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ৩৭ বছর বয়সী নারী রেনি গুড-কে এক ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই) এজেন্টের গুলি করে হত্যার ঘটনাটি জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন আমেরিকানের মধ্যে ৯ জনই এ ঘটনার কথা শুনেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন রেনি গুড-কে ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিলেও স্থানীয় নেতা ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে একে ‘অহেতুক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
ক্ষমতায় ফেরার এক বছরের মাথায় অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের জনসমর্থন এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপের জনপ্রিয়তা ৫০ শতাংশ থাকলেও বর্তমান জরিপে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে।
ট্রাম্পের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতাও আগের চেয়ে এখন কমে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের হুমকি:
গত বুধবার মিনিয়াপোলিসে এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গুলি করার ঘটনার পর উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও বরফের টুকরো নিক্ষেপ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ কার্যকরের মাধ্যমে মিনেসোটায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন।