Published : 22 Apr 2026, 05:35 PM
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অভিবাসন রুটগুলোতে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে অথবা তাদের অনেকে নিখোঁজ হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ইউরোপগামী সমুদ্রপথগুলো সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে দেওয়া পরিসংখ্যানে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এদের অনেকেই ‘অদৃশ্য জাহাজডুবির ঘটনায়’ হারিয়ে গেছেন।
জাতিসংঘের মানবিক ও সাড়া বিভাগের পরিচালক মারিয়া মোইতা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমরা যে সম্মিলিতভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছি তার প্রমাণ বহন করছে এই পরিসংখ্যানগুলো।”
প্রতিবেদনে আইওএম জানিয়েছে, জাতিসংঘের পরিসংখ্যানে ২০২৫ সালে ৭৯০৪ জন মানুষ মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এ সংখ্যাটি ২০২৪ সাল মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়া ৯১৯৭ জনের চেয়ে কম।
২০২৪ সালেই এই রুটগুলোতে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা হ্রাসের আংশিক কারণ ১৫০০ সন্দেহভাজন ঘটনা যেগুলো সাহায্য কাটছাঁটের কারণে যাচাই করা যায়নি।
২০১৪ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে আর এসব মৃত্যুর কারণে হিসাব অনুযায়ী তাদের পরিবারগুলোর তিন লাখ ৪০ হাজার সদস্য সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতি ১০টি মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনার মধ্যে চারটির বেশি ঘটেছে ইউরোপ যাওয়ার সমুদ্র রুটগুলোতে। এমন অনেক ঘটনা আছে যেগুলোতে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহনকারী নৌকাগুলো পুরোপুরি হারিয়ে গেছে, যেগুলোকে আর কখনোই পাওয়া যায়নি; এগুলোকেই তথাকথিত ‘অদৃশ্য জাহাজডুবির ঘটনা’ বলা হচ্ছে।
পশ্চিম আফ্রিকা থেকে উত্তরমুখি রুটে ১২০০ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আর এশিয়ায় রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে যাদের মধ্যে মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা আর বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরের দুর্দশা থেকে বাঁচার উদ্দেশে বের হওয়া শত শত রোহিঙ্গা রয়েছে।