Published : 17 Dec 2025, 12:46 AM
যুক্তরাজ্যের শতাব্দী পুরোনো সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি ঐতিহ্য ভেঙে বিজ্ঞাপন দেখানো শুর করতে পারে কিংবা সবস্ক্রিপশনের ভিত্তিতে দর্শকদের কাছে সহজলভ্য হতে পারে।
কারণ, যুক্তরাজ্য সরকার বিবিসি-র তহবিল কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে, যেখানে সার্বজনীন লাইসেন্স ফি ব্যবস্থা সংস্কার করে বিজ্ঞাপন বা সাবস্ক্রিপশন মডেল চালু করার প্রস্তাব আলোচনা করা হচ্ছে।
বিবিসি’র তহবিল ব্যবস্থা বছরের পর বছর ধরে জাতীয় বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে এবং এটি নিয়ে অসন্তোষ আছে। কারণ, বিবিসি-র এই লাইসেন্স ফি হল যুক্তরাজ্যে টিভি দেখার জন্য একটি বাধ্যতামূলক ফি।
কেউ কোনও টিভি চ্যানেল দেখলে বা বিবিসি আইপ্লেয়ারের মাধ্যমে লাইভ টিভি দেখলে এই লাইসেন্স ফি দিতে হয়। লাইসেন্স ফি-এর এই বাধ্যবাধকতা ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এর আওতা কমছে এবং এটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বিবিসি-র তহবিলের জন্য প্রতি বছর ব্রিটিশ নাগরিকরা একশ ৫৯ পাউন্ড (প্রায় দুইশ ডলার) করে আর্থিক ফি দিয়ে থাকেন। সংখ্যাটি সরকার নির্ধারণ করে দিলেও দেশটির বিভিন্ন পরিবার এগুলো পরিশোধ করে থাকে।
বিবিসি পরিচালিত হয় রাজকীয় সনদের অধীনে। আর এই সনদ সংস্থাটির লক্ষ্যমাত্রা ও উদ্দেশ্যের পাশাপাশি এর পরিচালনার কাঠামোও নির্ধারণ করে থাকে। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরে এই সনদের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।
তাই এখন থেকেই এই দশক পুরোনো সনদ পর্যালোচনা করে দেখতে শুরু করেছেন যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি। মঙ্গলবার তিনি বলেন, “বিবিসি-কে অবশ্যই স্বাধীন, জবাবদিহি করতে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং জনগণের আস্থা কুড়াতে হবে।”
বিবিসি’র নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং কিছু কেলেঙ্কারির কারণে তহবিলের স্বচ্ছতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিজিটাল যুগে দর্শক অভ্যাস বদলানোর কারণেও পুরনো পদ্ধতি অকার্যকর হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, তারা আরও বাণিজ্যিক রাজস্ব আয়ের বিকল্প পথ নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছে। এর মধ্যে আসতে পারে বিবিসি-র অনলাইন ও অন্যান্য সেবায় বিজ্ঞাপনের বিষয়টি। এতে বিবিসি’র নিজস্ব বাণিজ্যিক আয় বাড়বে।
এই পরিবর্তন আনলে বিবিসি’র বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন না থাকার বড় ধরনের বৈশিষ্ট্যটি আর থাকবে না। আবার বিজ্ঞাপন চালু হলে তা অন্য সম্প্রচার নেটওয়ার্কগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে।