Published : 22 Feb 2025, 12:01 AM
ইউরোপে জব্দ রাশিয়ার ৩০ হাজার কোটি ডলার যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেইনের পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে দিতে রাজি হতে পারে রাশিয়া। ইউক্রেইন যুদ্ধ সমাধানের অংশ হিসাবে তারা এই সম্মতি দিতে পারে।
তবে এই তহবিলের কিছু অংশ ইউক্রেইনের যে এক-পঞ্চমাংশ ভূখন্ড রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে, সেখানকার পুনর্গঠনে ব্যয় করার দাবি জানাবে রাশিয়া। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তিন কর্মকর্তা।
ইউক্রেইন যুদ্ধ অবসান নিয়ে সৌদি আরবে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা করেছে। শিগগিরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও সরাসরি বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
২০২২ সালে পুতিন ইউক্রেইনে সেনা পাঠিয়ে আগ্রসন শুরু করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করে। রাশিয়ার ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ইউরোপে জব্দ করা হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল ইউরোপীয়, মার্কিন ও ব্রিটিশ সরকারি বন্ড।
ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা এখন কেবল প্রাথমিক পর্য়ায়ে রয়েছে। আর এই সময়েই মস্কোয় গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, রাশিয়া এই বিপুল অঙ্কের জব্দ সম্পদ সম্ভাব্য একটি শান্তি চুক্তির অংশ হিসাবে ইউক্রেইন পুনর্গঠনের জন্য কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিতে পারে।
যুদ্ধে পূর্ব ইউক্রেইনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিধ্বস্ত হয়েছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেইন উভয় পক্ষেই হতাহত হয়েছে শত সহস্র সেনা। আরও লাখ লাখ ইউক্রেইনীয় ইউরোপীয় দেশগুলোতে নয়ত রাশিয়ায় পালিয়ে গেছে।
এক বছর আগে বিশ্ব ব্যাংক হিসাব দিয়ে জানিয়েছিল, ইউক্রেইন পুনর্গঠনে ৪৮ হাজার ৬ শ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। তবে ক্রেমলিন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
রাশিয়া তাদের জব্দ সম্পদ ইউক্রেইন পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য ব্যবহার করতে দিতে রাজি হতে পারে- এমন খবর এর আগে কখনও শোনা যায়নি। এখন এই গুঞ্জনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় রাশিয়া কোন কোন বিষয়ে আপোস করতে ইচ্ছুক তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সৌদি আরবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠকে জব্দ সম্পদ ব্যবহারের প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না তা অবশ্য এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি।
২০২৩ সালে জি-৭ বলেছিল, ইউক্রেইনকে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তহবিল জব্দ রাখা হবে। তবে ট্রাম্প ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭ এ রাশিয়াকে ফিরিয়ে আনতে চান বলে জানিয়েছেন।