Published : 03 Mar 2026, 09:12 PM
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। এতে কেবল যে প্রাণহানি ঘটছে তাই নয় শত শত কোটি ডলারের সামরিক অস্ত্রও ধ্বংস হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রেডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে।
বলা হয়েছে, কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রেডার ‘এএন/এফপিএস-১৩২’ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত হামলায় ১১০ কোটি ডলার মূল্যের এই বিশাল রেডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের গণমাধ্যম ও অন্যান্য পত্রপত্রিকাগুলো রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর জনসংযোগ বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত এই রেডারটি পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম ছিল।
ওই অঞ্চলে আকাশসীমায় কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকলেই সেটিকে চিহ্নিত করে সতর্ক করে দিত এই রেডার ব্যবস্থা। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল এই ব্যবস্থার কারণে অনেকটাই সুরক্ষিত ছিল।
কাতারের কয়েকজন কর্মকর্তারাও এই রাডারের ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে খবরে। এই রেডারটি মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করার জন্য ২০১৩ সালে স্থাপন করা হয়েছিল।
অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ ও মার্কিন সমরশক্তি:
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চালানো অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এপিক ফিউরি’। এই অভিযানে ওয়াশিংটন তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মারণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করছে।
এর মধ্যে রয়েছে: বি-২ বোম্বার: প্রতিটি ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের এই স্টিলথ বোম্বারগুলো মার্কিন বিমান বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
লুকাস ড্রোন: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা স্বল্পমূল্যের ‘লুকাস’ ড্রোন ব্যবহার করছে, যা অনেকটা ইরানি নকশার ‘শাহেদ ১৩৬’ ড্রোনের আদলে তৈরি।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ইরানের পাল্টা হামলা রুখতে প্যাট্রিয়ট এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরিও মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান কর্তৃপক্ষ, উভয়ই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই সংঘাত বেশকিছু সময় ধরে চলতে পারে।
তার মধ্যে বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রধান নজরদারি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি