Published : 16 Aug 2025, 09:05 PM
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ বৈঠককে রাশিয়া ও ইউক্রেইন যুদ্ধ বিষয়ে দেশটির বয়ানের জয় হিসেবে দেখছেন মস্কোর জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা।
আলাস্কায় বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই মস্কোর স্থানীয় সময় শনিবার ভোররাতে তারা এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
গার্ডিয়ান লিখেছে, রাশিয়ার নেতা কোনো ছাড় দেওয়া ছাড়াই তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবি প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও এখন কোনো নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হচ্ছেন না, মস্কো এটি উদযাপন করছে।
কঠোর দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য পরিচিত রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি ভেদভেদেভ টেলিগ্রামে বলেছেন, এই বৈঠক প্রমাণ করেছে কোনো শর্ত ছাড়াই আলোচনা হতে পারে, যেমনটি মস্কো জোর দিয়ে বলেছে যখন ইউক্রেইনে যুদ্ধ তীব্রতর হচ্ছে।
পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আন্দ্রেই ক্লিশাস বলেন, “আলাস্কার এই বৈঠক রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি ও ন্যায্য শান্তির আকাঙ্ক্ষা নিশ্চিত করেছে।”
তিনি এই শীর্ষ সম্মেলনকে রাশিয়ার সফলতা এবং ইউক্রেইন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের পরাজয় হিসেবে চিত্রিত করেছেন, যারা শর্তহীন একটি যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।
টেলিগ্রামে ক্লিশাস লিখেছেন, “হয় সামরিকভাবে নয়তো কূটনৈতিক উপায়ে বিশেষ সামরিক অভিযানের (ইউক্রেইন যুদ্ধ) কাজগুলো সম্পন্ন হবে। ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এজেন্ডায় একটি নকশা রয়েছে আর প্রত্যেকেরই তা গ্রহণ করতে হবে।”
শুক্রবার আলাস্কার অ্যাঙ্করেজে হওয়া এই বহু প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলনে চার বছরে পড়া ইউক্রেইন যুদ্ধ শেষ করা বা যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো চুক্তি হয়নি, কিন্তু পুতিন ও ট্রাম্প উভয়েই এই বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এই দুই নেতা প্রায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছেন। তারপর গণমাধ্যমের সামনে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি শেষে যার যার উড়োজাহাজে চড়ে বাড়ি ফিরেছেন।
রাশিয়ার ফেডারেল টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ওয়ান’ এর শনিবার সকালের খবরে সম্মেলনে ঘিরে আড়ম্বর, বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব এবং পুতিনকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে, তাতেই জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেইনে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে পশ্চিমা নেতারা যাকে একঘরে করার চেষ্টা করেছিল।
চ্যানেল ওয়ান বলেছে, “লাল গালিচা, করমর্দন এবং ভিডিও ফুটেজ ও ছবিগুলো বিশ্বব্যাপী সব প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়েছে ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখানো হয়েছে।”
চ্যানেলটি আরও বলেছে, এই প্রথমবারের মতো ট্রাম্প সফরে আসা একজন নেতার সঙ্গে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে নামার পর দেখা করেছেন।
চ্যানেলটির আলাস্কা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, স্পষ্টতই দুই নেতা বহু বিষয়ে একমত হয়েছেন, কিন্তু সেগুলো কী তা প্রকাশ করেননি।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রধান কনস্টান্টিন কোসাচ্যভ টেলিগ্রামে লিখেছেন, “আলাস্কা বৈঠকের বাস্তবতা, এর সুর ও এর ফলাফল উভয় প্রেসিডেন্টর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ও যৌথ সাফল্য চিত্রিত করেছে। তাদের উভয়েই এই সময়ে সম্ভাব্য সেরা ফলাফল পেতে অসাধারণ ব্যক্তিগত অবদান রেখেছেন।”
তবে অন্য ভাষ্যকাররা সমালোচনার সুরে কথা বলেছেন।
ইউক্রেইন যুদ্ধ সমর্থন করা এবং আট লাখেরও বেশি সাবস্কাইবার থাকা টেলিগ্রাম চ্যানেল ওয়ার গনজোতে লেখেন এমন এক ব্লগার পুতিনের মন্তব্যগুলোকে ‘বেশ দৃঢ়’ বলে প্রশংসা করলেও এই বৈঠক থেকে দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি আর প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে ‘বৈঠকটি হয়েছে’।
ওল্ড মাইনার নামের এই ব্লগার লিখেছেন, “এরপর কী হবে? ইউক্রেইনের লক্ষ্যস্থলগুলোতে আমাদের আঘাত যদি আবার শুরু হয়, ট্রাম্প আবার ঘোষণা করতে পারবেন যে ‘পুতিন অর্থহীন কথা বলছেন’ আর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে শুরু হওয়া এই আলোচনা প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারেন।
“অপরদিকে অন্তহীন আলোচনার জন্য রাশিয়া কী তার বিশেষ সামরিক অভিযান বন্ধ করতে পারবে?”