১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং কোথায়?

চীনের অস্বচ্ছ ব্যবস্থায় শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার এভাবে উধাও হওয়া সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং কোথায়?

ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Jul 2023, 11:00 PM

Updated : 19 Jul 2023, 12:55 AM

বেশ কয়েকদিন ধরে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংকে। এ নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নানা জল্পনা-কল্পনা ডাল পালা মেলছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিনকে সর্বশেষ দেখা যায় গত ২৫ জুন। ওই দিন শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া ও ভিয়েতনামের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কিনকে সর্বশেষ বেইজিংয়ে প্রকাশ্যে দেখা গেছে।

গত বছর ডিসেম্বরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পাওয়া কিন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আস্থাভাজন হিসেবেই পরিচিত।

তিনি দেশ-বিদেশে চীন সরকারের ভেতরের চেনা মুখগুলোর অন্যতম। তাই এত দীর্ঘ সময় ধরে তার জনসম্মুখে অনুপস্থিতি শুধু কূটনীতিক বা চীনের উপর যারা নজর রাখছে তাদেরই ভাবিয়ে তুলেছে না। বরং চীনের সাধারণ মানুষও বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন।

কিন কোথায় আছেন সে বিষয়ে সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংকে প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দেওয়ার মত কোনো তথ্য তার হাতে নেই।

চীনের সরকার পরিচালনা ব্যবস্থা অসচ্ছ্ব। সেখানে শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার এভাবে হঠাৎ ‘উধাও’ হয়ে যাওয়া সংকটের লক্ষণ হতে পারে।

এছাড়াও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যে জবাব দিয়েছেন সেটাও আগুনে ঘি ঢেলেছে।

চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবোতে মাও এর ভিডিও নিয়ে একজন মন্তব্য করেন, ‘‘তিনি কী জানেন না কীভাবে উত্তর দিতে হয়?” আরেকজন লেখেন, ‘‘ওই উত্তর বেশ উদ্বেগজনক।”

গত জুনে টানা বেশ কয়েকটি আয়োজনে অংশ নিয়েছেন কিন। তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।

চীনে এভাবে বিনা ব্যাখ্যায় শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘উধাও’ হয়ে যাওয়া অবশ্য নতুন কিছু নয়। এমনটা আগেও হয়েছে এবং দীর্ঘসময় পর জানা গেছে ‘উধাও’ হওয়ার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত হয়েছে।

অথবা, এমন হয়েছে যে ‘উধাও’ হওয়ার পর তারা আবার ফিরেও এসেছেন এবং কেন উধাও ছিলেন সে বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যাও দেন না।

এমন কী খোদ শি জিনপিং নিজেও ২০১২ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। তখন তিনি অসুস্থ এবং ক্ষমতার দখল নিয়ে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের গুজব রটেছিল। কিন দলের প্রভাবশালী নেতাদের একজন।

গত সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কারণে কিনের ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে না পারার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে এখন আর সেই লাইনগুলো নেই বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ইন্দোনেশিয়ার ওই সম্মেলনে কিনের পরিবর্তে তার পূর্বসুরী এবং বর্তমানে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি সেন্ট্রাল কমিটি ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিশন অফিসার ওয়াং ই গিয়েছিলেন।

শুধু তাই নয়, দুই সপ্তাহ আগে কিনের সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ফরেইন পলিসি চিফ জোসেপ বোরেলের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চীনের পক্ষ থেকে ইইউকে জানানো হয়, নির্ধারিত তারিখে ওই বৈঠক সম্ভব হচ্ছে না। কোনো কারণও ব্যাখ্যা করা হয়নি।

জোসেপ বোরেলের বেইজিং যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে চীন থেকে ইইউকে বৈঠক স্থগিতের বিষয়ে জানানো হয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান এক কর্মকর্তা।

সোমবার প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফিলিপিন্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুর্তেতে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে ওই বৈঠকের যে ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে দেখা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওয়াং ই এবং আরো বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও কোথাও নেই কিন।

কেনো কিন অনুপস্থিত সে বিষয়েও কোনো তথ্য না থাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা দিন দিন ডাল-পালা বিস্তার করছে। গত সাত দিনে অনলাইনে চীনের সবচয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিনে কিনকেই খোঁজা হয়েছে।