Published : 01 Apr 2026, 05:50 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পশ্চিমা সামরিক জোট নেটো থেকে বের হয়ে যাওয়ার জোরাল চিন্তা-ভাবনা করছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নেটো জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শেষের পর তিনি নেটোতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদের বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার বাইরে চলে গেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, "আমি কখনওই নেটোর প্রভাবে প্রভাবিত হইনি। আমি বরাবরই জানতাম তারা কাগুজে বাঘ, আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বিষয়টি ভাল করেই জানেন।”
যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজ বহরের সমালোচনা করে তিনি এগুলোকে সেকেলে এবং অকেজো বলে দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, "এমনকি, আপনাদের তো নৌবাহিনীও নেই। আপনারা খুবই পুরোনো হয়ে গেছেন। আপনাদের বিমানবাহী রণতরী থাকলেও সেগুলো কাজই করে না।"
মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ ভাঙতে নেটো সদস্যদের সরাসরি অংশ নিতে বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে অস্বীকৃতির কারণে ট্রাম্প এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেন।
ইউরোপীয় নেতারা হরমুজ প্রণালি খোলার চেষ্টাকে খুবই বিপজ্জনক হিসাবেই দেখছেন। ইরান হরমুজে তেল ট্যাংকারগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। যেসব দেশের ট্যাংকার বন্ধু দেশগুলো থেকে আসেনি বলে তারা মনে করছে সেগুলোর ওপর হামলা চলছে।
কর্মকর্তারাও মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই যুদ্ধ মূলত তার ‘নিজস্ব পছন্দ’। গত ফেব্রুয়ারির শেষে এই যুদ্ধ শুরু করার আগে মিত্রদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ার বিষয়েও মিত্রদের মধ্যে তীব্র অনীহা কাজ করছে।
ট্রাম্প অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মিত্রদের এই অনীহাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নেটোর ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন; বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে ইউক্রেনকে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে, এরপর এই আচরণ তার কাছে অগ্রহণযোগ্য।
অন্যদিকে, বিরোধীদের যুক্তি হল, নেটো মূলত সম্মিলিত ‘প্রতিরক্ষা’র জন্য তৈরি হয়েছে, কোনো দেশের ‘আক্রমণাত্মক’ যুদ্ধের জন্য নয়।
বুধবার প্রকাশিত মন্তব্য অনুযায়ী ট্রাম্প ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে বলেন, তিনি আশা করেছিলেন ইরান যুদ্ধে মিত্ররা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ মেনে নেবে।
তিনি বলেন, “সেখানে তাদের না থাকাটা আসলে অবিশ্বাস্য। আমি এ নিয়ে খুব একটা তোড়জোড় করিনি। আমি শুধু বলেছিলাম ‘হে’, আমি খুব একটা জোর দেইনি। আমি স্রেফ ভেবেছিলাম বিষয়টি হবে স্বয়ংক্রিয়।”