Published : 05 Apr 2026, 06:10 PM
প্রথম ড্রোনটি আঘাত হানে রাত দেড়টার দিকে। এতে সৃষ্ট গর্ত দিয়ে ৬০ সেকেন্ড পর ভেতরে ঢুকে পড়ে আরেকটি ড্রোন, তারপর ‘বুম’।
কাণ্ড যখন পুরোপুরি শেষ হয় ততক্ষণে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের তিনটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, চুরমার হয়ে গেছে ভেতরে থাকা মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র স্টেশনও।
গণমাধ্যমগুলোর খবর বলছে, গত ৩ মার্চ একটি ইরানি ড্রোন কূটনৈতিক এলাকার কাছে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এড়িয়ে রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। মিনিটখানেক পর একই পথ ধরে ভেতরে গিয়ে বিস্ফোরিত হয় আরেকটি ড্রোন।
এই হামলায় ছোটখাট আগুন লেগেছে এবং খুবই সীমিত পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পরে জানায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যে প্রতিবেদন করেছে তাতে মিলছে উল্টো চিত্র।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ গণমাধ্যম বলছে, আগুন আধা দিন ধরে জ্বলেছিল এবং দূতাবাসের কিছু অংশের এমন ক্ষতি হয়েছে যা আর মেরামত করা যাবে না।
দূতাবাস ভবনের একটি সুরক্ষিত অংশ ভেদ করে সিআইএ স্টেশনে আঘাত হানার এ ঘটনা ইরানের গোয়েন্দা সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, যদি দিনের বেলায়, ভবনটি যখন কর্মীতে পরিপূর্ণ থাকে, ড্রোন আঘাত হানতো তাহলে ক্ষয়ক্ষতি আরও মারাত্মক হতে পারতো। মার্কিনিরা যেসব জায়গাকে সুরক্ষিত মনে করতো, ইরান যে সেখানেও পৌঁছাতে পারে—ওই হামলার মাধ্যমে তেহরান সম্ভবত এই বার্তাই দিতে চেয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ কূটনৈতিক স্থাপনার মতো রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসেরও নিজস্ব কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা নেই। দূতাবাসটি তার নিরাপত্তার জন্য সৌদি আরবের ওপরই নির্ভরশীল।
সৌদি সামরিক বাহিনী একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনার সাহায্যে কাছাকাছি একটি প্রাসাদের নিরাপত্তা দেয়; ওই প্যাট্রিয়টের আওতার মধ্যে মার্কিন দূতাবাসও পড়ে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তারা।
ড্রোন হামলার রাতেই ইরান সৌদি আরবে থাকা সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের ওপর হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ আছে। দূতাবাস থেকে মাত্র কয়েকশ ফুট দূরেই ওই কূটনীতিকের বাসভবন অবস্থিত।
ইরান এরপরও রিয়াদের এমন অনেক স্থানে হামলা চালিয়েছে, যেগুলোকে সুরক্ষিত এলাকা বলেই আগে ভাবা হতো। প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে তেহরানের হামলায় ই-থ্রি এডব্লিউিএসিএস রেডার বিমানসহ একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং ট্যাংকার ধ্বংস এবং ডজনের বেশি সেনা আহতও হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোতে তুমুল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
কেবল রিয়াদেই নয়, বাগদাদ, দুবাই, কুয়েত এবং ইরাকি কুর্দিস্তানে এরবিলে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছড়ে পড়েছে।
যদিও এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহতের খবর মেলেনি।
এখন পর্যন্ত ইরানের হামলায় কেবল ৭ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। তবে তেহরানের পাল্টা হামলায় পেন্টাগনের শতকোটি ডলার মূল্যের উড়োজাহাজ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম।